চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ শিক্ষার্থী নিহত, লাশ হস্তান্তর

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্কঃ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ৫ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী। শুক্রবার(২৯ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

thai foods

দুর্ঘটনায় নিহত ১১টি মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে রেলওয়ে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ জুলাই) রাতে সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে আমরা হস্তান্তর করেছি।

নিহত ১১ জন হাটহাজারী উপজেলার আমানবাজার এলাকার ‘আর অ্যান্ড জে’ নামে একটি কোচিং সেন্টারের ছাত্র ও শিক্ষক। শুক্রবার (২৯ জুলাই) রাতে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীদুল আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতরা হলেন- উপজেলার আজিম সাবরেজিস্ট্রার বাড়ির হাজি মো. ইউসুফের ছেলে মাইক্রোচালক গোলাম মোস্তফা নিরু (২৬), চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইলিয়াছ ভুট্টোর ছেলে মোহাম্মদ হাসান (১৭), একই ইউনিয়নের খোন্দকার পাড়ার আবদুল হামিদের ছেলে জিয়াউল হক সজীব (২২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজ মেম্বার বাড়ির জানে আলমের ছেলে ওয়াহিদুল আলম জিসান (২৩), মজিদ আব্বাস চৌধুরী বাড়ির বাদশা চৌধুরীর ছেলে শিক্ষক রিদুয়ান চৌধুরী (২২), পারভেজের ছেলে সাগর (১৭) ও একই এলাকার আবদুল ওয়াদুদ মাস্টার বাড়ির আবদুল মাবুদের ছেলে ইকবাল হোসেন মারুফ (১৭), ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাফফর আহমেদের ছেলে মোসহাব আহমেদ হিসাম (১৬), আব্দুল আজিজ বাড়ির মৃত পারভেজের ছেলে তাসমির হাসান (১৭), মনসুর আলমের ছেলে মো. মাহিম (১৭), ২ নম্বর ওয়ার্ডের আবু মুসা খানের বাড়ির মোতাহের হোসেনের ছেলে মোস্তফা মাসুদ রাকিব (১৯)।

শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বড়তাকিয়া রেলস্টেশনের কাছে খৈয়াছড়া ঝরনা এলাকায় মিরসরাইয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন এই ১১ জন। মাইক্রোবাসের ১৮ যাত্রীর মধ্যে ৭ জন গুরুতর আহত। তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, রেললাইন পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা মহানগর প্রভাতী ট্রেন প্রায় এক কিলোমিটার সামনে নিয়ে যায়। মাইক্রোবাসের যাত্রীরা খৈয়াছড়া ঝরনা দেখতে আসছিলেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনসার আলী জানান, ট্রেনটি বড়তাকিয়া স্টেশন পার হওয়ার সময় লেবেল ক্রসিংয়ের বাঁশ ঠেলে রেললাইনে উঠে যায় মাইক্রোবাস। এতে ঘটে দুর্ঘটনা।

এ ঘটনায় খৈয়াছড়া রেলক্রসের গেটম্যান মো. সাদ্দাম হোসেনকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রেলক্রসিং এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, গেটম্যান পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

এদিকে, ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের ১১ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) দুপুরের দিকে এ কমিটি গঠন করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

কমিটিতে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনছার আলীকে প্রধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনা কেন ঘটেছে এবং কার দায় রয়েছে, তা জানতে কমিটি কাজ করবে।
কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রেনটি বড়তাকিয়া ক্রস করার সময় লাইনে উঠে যায় মাইক্রোবাসটি। এ সময় ইঞ্জিনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি কিছু দূর চলে যায়। ইতোমধ্যে তদন্ত কাজ শুরু করেছি।
চেষ্টা করছি তিন-চার দিনের মধ্যেই প্রতিবেদন দাখিল করতে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলী-১ আবদুল হামিদ, বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (লোকো) জাহিদ হাসান, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট রেজানুর রহমান এবং বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার (ডিএমও) মো. আনোয়ার হোসেন।

খখ/মো মি

আগেদেশ রূপান্তর সম্পাদক অমিত হাবিব আর নেই
পরেমালদ্বীপকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ