খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্কঃ চট্টগ্রাম জেলার ১৭ থানার মধ্যে মাদক বিরোধী অভিযানে এগিয়ে রয়েছে চন্দনাইশ থানা পুলিশ। প্রায় প্রতিদিনই ‘টিম চন্দনাইশ’ উদ্ধার করে চলেছে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ নানা ধরনের মাদক।
গত দুই সপ্তাহে চন্দনাইশ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯২ হাজার পিস (শলাকা) বিদেশি সিগারেট, ৬১ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চন্দনাইশ থানা এলাকায় পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে (৮টি অভিযান) এসব মাদক উদ্ধার করা হয়।
এই ব্যাপারে চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানে চন্দনাইশ থানা পুলিশের অভিযানকারী টিম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে। ফলে প্রতিটি অভিযানে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। চন্দনাইশ থানার বিশেষ টিম গত দুই সপ্তাহে থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯২ হাজার পিস (শলাকা) বিদেশি সিগারেট, ৬১ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ থানাধীন দক্ষিণ গাছবাড়িয়া সড়কে চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহি ‘রোড মাস্টার’ বাসে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার (৪০০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারী মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া নারী মাদক পাচারকারী আরেফা খাতুনের (৩৫) ট্রাভেল ব্যাগের তলায় বিশেষ কায়দায় ৪ হাজার পিস ইয়াবা লুকিয়ে রাখা ছিল। আরেফা
দীর্ঘদিন যাবত যাত্রীবেশে ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার করে আসছিল।
আরেফা খাতুন কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানায় সাবরাং ইউনিয়নের শাহ পরীর দ্বীপের মৃত আবদুল হাকিমের স্ত্রী।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টায় চন্দনাইশ থানার উত্তর গাছবাড়িয়া সড়কে মারছা পরিবহনে অভিযান চালিয়ে আমির হোসেন(৩২) নামের এক যাত্রীর কাছ থেকে দুই হাজার (২০০০) পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
ইয়াবাসহ আটক হওয়া আমির হোসেন কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার ডুলহাজারা ইউনিয়নের ছৈয়দ আলমের ছেলে।
একই দিন একই স্থান হতে অপর এক অভিযানে চট্টগ্রামগামি মারছা পরিবহনে অভিযান চালিয়ে দেশীয় তৈরি ৪০ লিটার চোলাই মদসহ হৃদয় বড়ুয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া হৃদয় বড়ুয়া বান্দরবান জেলার সদর থানার বালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা বাবুল বড়ুয়ার ছেলে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ পৌরসভাস্থ উত্তর গাছবাড়িয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের অফিসের সামনে ঢাকাগামী যাত্রীবাহি সৌদিয়া বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৮০০ ‘শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. আরাফাত (২৯) এক যাত্রীকে আটক করা হয়।
ইয়াবাসহ আটক আরাফাত চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ছদহা ইউনিয়নের মো. ইউনুসের পুত্র।
গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার সময় উত্তর গাছবাড়িয়া সড়কে অভিযান চালিয়ে
কক্সবাজার হতে আসা অবৈধ বিদেশি সিগারেট ভর্তি একটি মিনি ট্রাক আটক করা হয়।
মিনি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৪৪০ কার্টুন, ৪৪০০ প্যাকেট, ৮৮ হাজার পিস (শলাকা) বিদেশি সিগারেটসহ মো. জাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া জাহিদুল কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানার লিংক রোডের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার সময়
চন্দনাইশ পৌরসভাস্থ উত্তর গাছবাড়িয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগের অফিসের সামনের রাস্তায় চট্টগ্রামগামি মারছা পরিবহনে অভিযান চালিয়ে ৩০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. শহিদুল ইসলাম প্রকাশ শহিদ(২৪) নামের এক যাত্রীকে গ্রেপ্তার করে।
ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার শহিদ কক্সবাজার জেলার পেকুয়া থানার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে সে কক্সবাজার সদরের ৯নং বৈদ্যঘোনা খাজা মঞ্জিলে বাসিন্দা।
একই দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে রাজিব হোসেন রাজন, সানজিদা সুলতানা মিতু নামের দুইজন জিআর, সিআর পরোয়ানা ভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার সময়
চন্দনাইশ থানার উত্তর গাছবাড়িয়া দেলোয়ার স্টোরের সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে চোরাচালান কালে ৪ হাজার (৪০০০) পিস (শলাকা) বিদেশি সিগারেটসহ হাছান আলী (৩৩) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া হাছান আলী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার ছদহা ইউনিয়নের আবদুর রহমানের পুত্র।
একই দিন একই স্থান হতে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার (১০০০) পিছ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সোহাগ সরকার নামের এক ইয়াবা পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সোহাগ কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার থানা এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার পুত্র।
এছাড়াও পৃথক অভিযানে আব্বাস উদ্দিন মনা (৫২), নুরে আলম (২৬), নঈম (১৯) নামে ৩ জন জিআর পরোয়ানা ভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১০ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ থানাধীন সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডস্থ নগর পাড়ায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১ শত (১১০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭০ হাজার নগদ টাকা, ৫ লিটার দেশি তৈরি চোলাই মদ, ১টি মোটরসাইকেল (রং কালো, Suzuki gixer) সহ মো. ওয়াসিম-৩৬ (পিতা- মৃত আমির আহমদ), মো. শাহজাহান-৩৫ ( পিতা- মৃত নুরুল ইসলাম) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা চন্দনাইশ থানাধীন পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
এছাড়াও একই দিন পৃথক অভিযানে অপহরণ করে ধর্ষণ মামলার আসামি মো. আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৮ সেপ্টেম্বর চন্দনাইশ থানাধীন কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের বটতল মুরাদাবাদ রাস্তার মাথায় অভিযান চালিয়ে ১৬ লিটার দেশীয় তৈরি চোলাই মদ এবং মাদক বহনকাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল (Apache-4v)সহ সুমন বড়ুয়া (৩৮) নামের এক মদ পাচারকারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সুমন বড়ুয়া চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার বড়লিয়া ইউনিয়নের মৃত তপন বড়ুয়ার ছেলে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে
মাদক বিরোধী পৃথক এসব অভিযানের নেতৃত্বে



ছিলেন চন্দনাইশ থানার অপারেশন অফিসার এসআই মো, খালেকুজ্জামান, এসআই হিরু বিকাশ দে, এসআই এখতিয়ার হোসেন, এসআই খলিলুর রহমান, এসআই গোবিন্দ কুমার শর্মা ও এসআই মোঃ হাসান উদ্দিন।
খখ/মো মি


