খাসখবর খেলা ডেস্কঃ ইন্দোনেশিয়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠে দু’দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সংঘর্ষ ও পদদলিত হয়ে ১৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৮০ জন।

রোববার (২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
জানা গেছে, শনিবার (১ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের একটি স্টেডিয়ামে জাভানিজ ডার্বিতে মুখোমুখি হয় আরেমা-পার্সেবায়া। ম্যাচটিতে ২-৩ গোলে হেরে যায় আরেমা। দল হারার পর আরেমার সমর্থকেরা মাঠে নেমে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে ভিড়ে পদদলিত হয়ে অনেকের প্রাণহানি ঘটে।
পুলিশ প্রশাসন জানায়, পূর্ব জাভার স্টেডিয়ামে খেলায় পার্সিবেয়া সুরাবায়া টিমের কাছে হেরে যায় আরমেয়া এফসি। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ভক্ত-সমর্থকরা। শেষ বাঁশি বাজার পরপরই তারা মাঠে নেমে যায়। পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
পূর্ব জাভার পুলিশ প্রধান নিকো আফিন্তা বলেন, নিহতদের মধ্যে দুই পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এঘটনায় স্টেডিয়ামের ভেতরে ৩৪ জন মারা গেছে এবং বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন।
ইন্দোনেশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএসএসআই) বলেছে, এ ঘটনায় তারা তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া ঘটনাটি ইন্দোনেশিয়ার ফুটবলের মুখকে কলঙ্কিত করেছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা।
এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষ লিগের সব ম্যাচ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো।
ফুটবল বিশ্বে এমন কলঙ্কিত ঘটনা আরো রয়েছে। ১৯৬৪ সালে পেরুর রাজধানী লিমাতে অলিম্পিকের বাছাইপর্বের খেলায় মুখোমুখি হয় পেরু-আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে সংঘর্ষে ও পদদলিত হয়ে নিহত হন প্রায় ৩২০ জন ও ১ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়।
এছাড়া ১৯৮৫ সালে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের হেইসেল স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় লিভারপুল ও জুভেন্টাস। ম্যাচ চলাকালীন সময়ে গ্যালারীর দেয়াল ভেঙ্গে পড়ে প্রায় ৩৯ জনের প্রানহানি ঘটে। এই ঘটনায় আরো আহত হন প্রায় ৬০০ জন।
১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডের এফ এ কাপের সেমিফাইনালে নট্যিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে খেলতে নামে লিভারপুল। ইংল্যান্ডের হিলসবরো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সংঘর্ষে প্রায় ৯৭ লিভারপুল সমর্থক নিহত হন।
এই ঘটনাগুলো ফুটবল ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত।
খখ/মো মি


