খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানা এলাকার এয়ার পোর্ট রোড়ে তেলবাহী ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার সিজিপিওয়াই সংলগ্ন নিউমুরিং রেলগেটে (পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ডিপো এলাকায়) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- আজিজুল হক (৩০), আসাদুজ্জামান (৩০) ও মিটন কান্তি দে (২৫)। তাদের মধ্যে আজিজুল হক রেলের পয়েন্টম্যান।
তিনি এক মাস আগে সেখানে এ পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। নিহত বাকি দুইজন পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তারা ওই বাসের যাত্রী ছিলেন।
ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল করিম জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে তেলবাহী ওয়াগন সড়কের ওপর দিয়ে রেললাইন অতিক্রম করছিল। এ সময় দায়িত্বরত রেলকর্মী গাড়ি থামার সংকেত দেন। কিন্তু সংকেত অমান্য করে বিমানবন্দর অভিমুখী একটি বাস এগিয়ে যায়। এ সময় চলন্ত ওয়াগনের ইঞ্জিনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি উল্টে যায়। পরে পথচারীরা সেখানে কর্তব্যরত রেলের একজন পয়েন্টসম্যানসহ তিন জনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক বলেন, দুর্ঘটনায় আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনজনকেই কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে এসআই নুরুল আলম বলেন, এয়ারপোর্ট রোডে সিগন্যাল অমান্য করে একটি বাস তেলবাহী ট্রেনকে ধাক্কা দিলে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা তারেক মুহাম্মদ ইমরান জানান, মেঘনা অয়েলে তেলভর্তি ওয়াগন ট্রেন আনার জন্য একটি ইঞ্জিন যাচ্ছিল। এ সময় সংকেত দেওয়া হলেও সেটি উপেক্ষা করে যাত্রীবাহী বাসটি রেললাইনের ওপরে চলে আসে। তখন রেলের ইঞ্জিন সেটিতে দ্রুতগতিতে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে রেলের পয়েন্টসম্যান আজিজুল হক নিহত হন।
এদিকে এ ঘটনা তদন্ত করতে তিন সদস্যর কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে। কমিটিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মুহাম্মদ তারেক ইমরানকে প্রধান করা হয়েছে।
কমিটির বিষয়ে রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবিদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যর কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খখ/মো মি


