জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস

thai foods

খাসখবর আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারালো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। ভারতে জাতীয় দলের সংখ্যা আট থেকে কমে হয়েছে ছয়।

thai foods

২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসকে জাতীয় দলের স্বীকৃতি দেয়। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

সেই বছর পাঁচ রাজ্যে ছয় শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে ৪২টি আসনের মধ্যে জিতেছিল ৩৪টিতে। সাত বছর পর সেই স্বীকৃতি হারালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ২০১৯ এর লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ধাক্কা খাওয়ার পর জাতীয় দলের স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

কিন্তু সে যাত্রায় স্বীকৃতি বাতিল হয়ে যায়নি। বস্তুত, স্বীকৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরা, গোয়া, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়ের মতো রাজ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা হলো না। জাতীয় দলের স্বীকৃতি ধরে রাখতে তিনটি শর্তের একটি অন্তত পূরণ করতে হয়।

সেই শর্ত অনুযায়ী, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে দুই শতাংশের বেশি ২২ কেন্দ্রে জেতে তৃণমূল। কিন্তু শুধু বাংলায়, তিনটি রাজ্য থেকে নয়। তাছাড়া শর্ত অনুযায়ী, তিনটি রাজ্যে লোকসভা বা বিধানসভা ভোটে ছয় শতাংশ ভোট পায়নি তৃণমূল কংগ্রেস।

স্বীকৃতি অক্ষুণ্ণ রাখতে তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরা, গোয়া, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়ের মতো রাজ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
গোয়ায় পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ ভোট প্রাপ্তি পিছিয়ে দিয়েছে তাদের। পশ্চিমবঙ্গকে বাদ রাখলে মেঘালয় বিধানসভা নির্বাচনে ১৪ শতাংশ সমর্থন স্বীকৃতি অটুট রাখার পক্ষে পর্যাপ্ত ছিল না। ত্রিপুরায় তৃণমূলের ভোট প্রাপ্তি ছিল নোটার থেকেও কম।

বাংলার বাইরে শুধু মেঘালয় বিধানসভায় তাদের পাঁচ সদস্য রয়েছেন। মণিপুর ও অরুণাচল প্রদেশে রাজ্য দলের স্বীকৃতিও হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে না পারায় পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য দলের তকমা গিয়েছে আরএসপি এর। সিপিআই ও শরদ পাওয়ারের এনসিপি জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারিয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী, কমপক্ষে ছয় শতাংশ ভোট বা দুটি কেন্দ্রে জয় পেতে হয় বিধানসভা নির্বাচনে। গত নির্বাচনে এ রাজ্যে বামেরা কোনো আসনই পায়নি। বামফ্রন্টের শরিক দুই দল ভোট পেয়েছিল নগণ্য। তৃণমূল জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারালেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আপ জাতীয় দলের স্বীকৃতি পেয়েছে। জন্মের ১১ বছরের মধ্যে জাতীয় দলের স্বীকৃতি পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় ব্যাপার।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় তৃণমূল কংগ্রেস। এর বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করা যায় কি না, সেই বিষয়ে আইনি পরামর্শ করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব।

দলের সাংসদ সৌগত রায়ের মন্তব্য, ‘আমরা আগে অনেক বাধা পেরিয়েছি, এটা পেরিয়ে যাব। এই সিদ্ধান্তে কোনো ফারাক হবে না।’ জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারালেও রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ও নির্বাচনী ফলাফলে এর কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন না তারা।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের স্বীকৃতি কাড়তে দরবার করেছিলেন নির্বাচন কমিশনে। তার মন্তব্য, ‘ত্রিপুরায় তৃণমূল প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় কমিশনকে জানিয়েছিলাম। এবার সর্বভারতীয় কথাটা মুছে দিলেই হল!’

‘সর্বভারতীয়’ কথাটি প্রত্যাহার করা বাধ্যতামূলক না হলেও তা ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দলগুলো। শতাব্দী প্রাচীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) জাতীয় দলের স্বীকৃতি হারিয়েছে। একই অবস্থা শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি)।

জাতীয় দলের তালিকায় নতুন সংযোজন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি। দিল্লির পর পাঞ্জাবেও ক্ষমতা দখল করেছে তারা। কমিশনের সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ী ছয়টি জাতীয় দল বিজেপি, কংগ্রেস, আপ, সিপিএম, বিএসপি, এনপিপি। তালিকার রদবদলে জাতীয় রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে বলে মনে করেন না তৃণমূলপন্থী পর্যবেক্ষক ভাস্কর সিংহরায়।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলার বিধানসভা ভোটে তৃণমূল তিনটি জাতীয় দলকে হারিয়েছে। বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম। আর কেন্দ্রীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে সবাই জোট বাঁধছে। এখানে জাতীয় বা রাজ্য দলের কোনো ভেদাভেদ নেই।’

নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় দলগুলো বাড়তি সুবিধা পায়। যে প্রদেশে রাজ্য দলের স্বীকৃতি নেই, সেখানে ভোটে লড়তে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে তৃণমূল, সিপিআই, এনসিপিকে। জাতীয় দলগুলিকে নিয়ে কমিশন বৈঠকে বসলে সেখানে ডাক পাবে না এরা।

জাতীয় দল না হলে দিল্লিতে সদর কার্যালয় রাখা যাবে না। বৈদ্যুতিক ভোট যন্ত্র বা ব্যালটে উপরের দিকে থাকবে না দলীয় প্রতীক। সরকারি গণমাধ্যমে বিনামূল্যে প্রচারের সময় মিলবে না। জনসভার অনুমতি থেকে তারকা প্রচারকের সংখ্যা, নানা ক্ষেত্রে রাজ্য দলের থেকে জাতীয় দল বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে।

২০২৪ এর লোকসভা ভোটকে সামনে রেখে জাতীয় স্তরে নেতৃত্ব দেয়ার উচ্চাশা দেখা যাচ্ছিল তৃণমূলের গতিবিধিতে। কমিশনের সিদ্ধান্তে তা ধাক্কা খেলো বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অমল মুখোপাধ্যায়।

প্রেসিডেন্সির সাবেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘কিছুদিন আগেও রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা শোনা গিয়েছে তৃণমূল নেতাদের মুখে। এখন আর সেই জায়গা তাদের রইল না। এবার রাহুল তথা কংগ্রেসের নেতৃত্ব স্বীকার করে নিতে হবে। তবে সামনের পঞ্চায়েত ভোটে এর প্রভাব পড়বে না।’

খখ/মো মি

আগেবঙ্গবাজারে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৩ হাজার ৮৪৫
পরেগণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আর নেই