খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় স্ত্রীকে হত্যার পর তড়িঘড়ি করে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে মরদেহ দাফন করেছিলেন স্বামী। স্বামীকে গ্রেপ্তার করে দাফনের ৯ দিন পর কবর থেকে ওই নারীর মরদেহ উত্তোলন করেছে পতেঙ্গা থানার পুলিশ।
স্বামী কাজী শাহেদুজ্জামান রিমনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে ১৯ জুন (সোমবার) ১১টা ৫৫ মিনিটে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার পশ্চিম খাদিরখিল এলাকা থেকে আসমা আক্তার (২৭) নামের ওই নারীর মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
আসমা আক্তারের স্বামীর নাম কাজী শাহেদুজ্জামান রিমন (৩৫)। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার পশ্চিম খাদিরখিল এলাকায়। এই দম্পতি চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা থানার খেজুরতলা এলাকায় থাকতেন।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বাসিন্দা রিকশা চালক মো. আলমের তৃতীয়
মেয়ে আসমা আক্তার (২৬) ১২ বছর আগে গার্মেন্টসের চাকরি করার জন্য চট্টগ্রাম শহরে আসে। গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে কাজী শাহেদুজ্জামান রিমন (৩৫) এর সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে ১১ বছর আগে রিমনকে বিয়ে করেন আসমা আক্তার। তাদের ঘরে ৯ বছর বয়সী এক ছেলে এবং ৩ বছর ও ১০ মাস বয়সী দুই মেয়ে রয়েছে।
আসমার বাবা মো. আলমের অভিযোগ, গত ১০ জুন বিকেলে রিমন তাকে ফোন করে জানায় আসমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি নিয়ে রিমনের অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে শাহেদুজ্জামান রিমন তার ফোনটি বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে আসমার বাবা পতেঙ্গার খেজুরতলা এলাকায় আসেন। মেয়ের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, তারা মৃত আসমার গলায় দাগ দেখেছেন। এই ঘটনায় আসমার বাবা আলম বাদী হয়ে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন।
এবিষয়ে পতেঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফতাব হোসেন ‘খাসখবর ডট নিউজ’কে বলেন , গত ১২ জুন আসমা আক্তারের বাবা পতেঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন তার মেয়েকে হত্যা করে জামাতা মরদেহ গুম করেছেন। গত ১৪ জুন শাহেদুজ্জামান রিমনকে ইপিজেড থানার কাজী গলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করি। পরে তার স্বীকারোক্তি মতে কিছু আলামত উদ্ধার করি। পরে আদালতের অনুমতিতে রিমনকে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী আসমাকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার পশ্চিম খাদিরখিলস্থ নিজ এলাকায় আসমা আক্তারকে দাফন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে সোমবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে আনা হয়েছে। আসমা আক্তারে গলিত মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।


খখ/ মো মি


