চট্টগ্রামে রথযাত্রা উৎসবের মহাশোভাযাত্রায় প্রায় লক্ষাধিক ভক্তের ঢল

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: প্রায় লক্ষাধিক ভক্তের অংশগ্রহণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব উদযাপিত হয়েছে। রবিবার (৭ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন তুলসীধাম ও প্রবর্তক ইসকন মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে বের করা হয় রথযাত্রা।

thai foods

কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। এই জনপদে সবার শান্তিপূর্ণ বসবাস বাঙালির আবহমান সংস্কৃতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত লাভ করেছে।’

এ সময় মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপ মিত্র চৌধুরী (পুরী) মহারাজের পৌরহিত্যে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথ পরিক্রমা উৎসব উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন।

তিনি বলেন, ‘আজকে চট্টগ্রামের এই উৎসবমুখোর পরিবেশ দেখে আমি আনন্দিত। আজ এই উৎসব বাংলাদেশের মতো ভারতেও উদযাপন করা হচ্ছে। তাছাড়া শ্রীচৈতন্যের সময় থেকে বাঙালির সঙ্গে রথের যোগাযোগ আরও গাঢ় হয়েছে, যা পুষ্ট করেছে বাংলার সংস্কৃতিকে।’

রথযাত্রা উৎসবে বিশেষ অতিথি সিএমপি কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রামে সব সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে শামিল হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সিএমপির পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল থেকে বাচ্চা হারিয়ে যাওয়ার খবর ছড়াচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাই অভিভাবদের প্রতি আহ্বান; আপনারা আপনাদের ছোট্ট সোনামণিদের হাতছাড়া করবেন না। যেকোনো জরুরি অবস্থায় সিএমপি আপনাদের পাশে আছে।

উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিক প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, মহিলা কাউন্সিলর রুমকি সেনগুপ্ত, সাবেক কাউন্সিলর বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ, ব্যবসায়ী মো. সাহাবউদ্দিন, লিটন ধর প্রমুখ।

অন্যদিকে নগরের প্রবর্তক ইসকন মন্দিরে প্রবর্তক মোড়ে ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্যোগে রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীস্টান সকলের মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে স্বাধীনতা লাভ করেছে। একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে জন্মলাভ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সেই চেতনাকে ধারণ করে অদম্যগতিতে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু মাঝে মাঝে স্বার্থান্বেষী মহল ও ধর্মান্ধরা আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আঘাত করার চেষ্টা করে। আমাদের সরকার সব সময় এই অপশক্তিকে দমন করেছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী। উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। বিশেষ আলোচক ছিলেন শ্রী শ্রী পুন্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দারু ব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। ঐক্যবদ্ধ সনাতন সমাজের সমন্বয়ক সাংবাদিক বিপ্লব পার্থের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিক্ষাবিদ ড. জিনোবোধি ভিক্ষু, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, রাঙ্গুনীয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শেখর বিশ্বাস, কাউন্সিলর মোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. কুশল বরণ চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ আচার্য্য, স্বামী অদ্বৈতানন্দ যোগাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ স্বামী অক্ষরানন্দ পুরী মহারাজ, শ্রীশ্রী শ্মশান কালী মাতৃ সেবাশ্রম ও গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ স্বামী পরিতোষানন্দ গিরি মহারাজ, কৈবল্যধামের ট্রাস্টি মনিলাল দাশ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশুতোষ মহাজন, সনাতনী জাগরণ সংঘের সভাপতি কাঞ্চন আচার্য্য, সংগঠক ডা. যীশুময় দেব, রাঙ্গুনীয়া উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রণব কুমার দে, অ্যাডভোকেট শৈবাল শীল, মিলন শর্মা, সুমন সরকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর উপ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মিঠুন বিশ্বাস, জাগো হিন্দু পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রুবেল কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক টিটু শীল, শারদাঞ্জলি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লিংকন তালুকদার, যুব সংগঠক অজয় দত্ত, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা পরিষদের সদস্য অর্পণ চক্রবর্তী, জুয়েল আইচ, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুবেল দাশ, অভিরাজ নাথ প্রমুখ।

নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ পণ্ডিত গদাধর দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে ও তারণ নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় রথযাত্রায় মহান আশির্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের উড়িষ্যা থেকে আসা ইসকনের অন্যতম সন্যাসী শ্রীমৎ ভক্তি নীলাচল স্বামী মহারাজ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম, প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক চন্দন তালুকদার, চট্টগ্রাম হিন্দু ধর্ম খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিতাই প্রসাদ ঘোষ, কাউন্সিলর প্রফেসর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মন্জু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, নগর যুবলীগের সহ-সভাপতি দেবাশীষ পাল দেবু, সুমন দে, মহিলা কাউন্সিলর রুমকী সেনগুপ্ত, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের সহ সভাপতি অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, সুবল সখা দাস ব্রহ্মচারী, অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ।

ভোরে মঙ্গলারতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা হয়। বিকাল ৫টায় রথযাত্রার বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিনেমা প্যালেস প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। শোভাযাত্রায় চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের অংশগ্রহণের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন নামহট্ট, ভক্তিবৃক্ষ, ইয়ুথ ফোরাম, গীতা প্রচার বিভাগ, জাগ্রত ছাত্র সমাজ, সংর্কীতন, ফুড ফর লাইফ, নিত্যসেবা, সনাতন বিদ্যার্থি সংসদ, জাগো হিন্দু পরিষদ, শারদাঞ্জলি ফোরাম, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, রাধা বিনোধ, ভ্রাম্যমাণ গীতা প্রচার সংঘ, ঋষি মতিলাল স্মৃতি সংসদ, বিশ্ব সনাতন ঐক্য, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, সনাতন সংগঠন, ইউএসটিসি, মেডিকেল সার্ভিস টিম, বাংলাদেশ সনাতনী গণ জাগরণ মঞ্চ, কোজাগরী পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ, শারদাঞ্জলী ফোরাম সহ ১৭ টির অধিক বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক বিভিন্ন পৌরাণিক সাজসহ অংশগ্রহণ করেন। মহাশোভাযাত্রায় প্রায় লক্ষাধিক ভক্ত সংকীর্তনে নগরের রাজপথ পরিভ্রমণ করেন। অনুষ্ঠানসূচিতে ছিল মঙ্গলারতি, গুরুপূজা, ভাগবত পাঠ, বিশ্ববাসীর কল্যাণার্থে শ্রীজগন্নাথের সন্তুষ্টি বিধানার্থে ১০টি অগ্নিহোত্র বৈদিক যজ্ঞ, মঞ্চে ভজন কীর্তন, ভোগারতি, সংকীর্তন। এতে প্রায় পঞ্চাশ হাজারেরও অধিক ভক্তের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। নগরের মোড়ে মোড়ে নগরবাসীগণ উলু ধ্বনি, শঙ্খ ধ্বনি, মঙ্গল প্রদীপ পূজার নৈবেদ্য সহকারে জগন্নাথ-বলদেব-সুভদ্রা মহারাণীকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পৌরাণিক সাজের মাধ্যমে আবহমান বাংলার ও বৈদিক সংস্কৃতির চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়।

ঐতিহ্যবাহী মহাশোভাযাত্রা নন্দনকাননস্থ ডিসি হিল থেকে শুরু হয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নন্দনকানন শ্রীশ্রী গৌর নিতাই আশ্রমে এসে শেষ হয়। মহাশোভাযাত্রায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভক্তবৃন্দসহ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, পৌরাণিক সাজ ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে যোগদান করেন।

খখ/মো মি

আগেচট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার
পরেবগুড়ায় রথযাত্রায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ গেল ৫ জনের, আহত ৪০