সিএমপির সদর দপ্তর ও ৭ থানায় ভাঙচুর আগুন লুটপাট

সিটি মেয়র, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-জনপ্রতিনিধির বাসাবাড়ি-অফিস ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির-বাড়িঘরে হামলা
thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অন্তত ৬টি থানা ও ১টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় লুট করা হয়েছে পুলিশের অস্ত্র, গুলি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাসাবাড়ি অফিসেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলা হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে।

thai foods

সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল থেকেই শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরে বিক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নামে ‘বিজয় উল্লাস’ করতে। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় এসব ঘটনা ঘটছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিকেলের পরপরই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, ইপিজেড, কোতোয়ালী, আকবর শাহ্, বায়েজিদ বোস্তামী ও পাহাড়তলী থানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। এ সময় হামলাকারীরা থানায় থাকা পুলিশের অস্ত্র, গোলাবারুদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়া, বিকেল ৫টার দিকে নগরীর দামপাড়ার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটক ভেঙে হামলাকারীরা ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওয়াসা মোড় এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধদের সাথে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দামপাড়া পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকের সামনে কয়েকশ মানুষ অবস্থান নেয়। তারা হামলা চালিয়ে গেইট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ সদস্যরা ভেতর থেকে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে বিক্ষুব্ধ জনতা।

চান্দগাঁও থানার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপ-পরিদর্শক সন্ধ্যা ৭টার দিকে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ভেতরে ওসি স্যারসহ প্রায় ১০০ জন পুলিশ সদস্য রয়েছি। বাইরে হামলাকারীরা অবস্থান করছে। তারা থানায় ঢোকার চেষ্টা করছে। আমরাও যে মানুষ এটা কেউ বুঝতেছে না। আমাদেরও তো পরিবার আছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর লালদিঘি এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারেও হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় হামলাকারীদের ঠেকাতে ভেতর থেকে গুলি ছোঁড়েন কারারক্ষীরা।

জেলসুপার মো. মঞ্জুর হোসেন সন্ধ্যা ৬টায় সাংবাদিকদের জানান, বাইরে অনেক মানুষের ভিড়। তবে এখন পর্যন্ত জেলখানার ভেতরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

নগরীর লালদিঘীর পাড়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, নিউমার্কেট এলাকায় দোস্ত বিল্ডিংয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, দারুল ফজল মার্কেটে নগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় এবং কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাসাবাড়িতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি, ম্যুরাল, নামফলক ভাঙচুর করা হয়েছে।

এদিকে, সরকার পতনের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া যুবলীগের নেতা হেলাল আকবর বাবরের নন্দনকাননের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া চসিক ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন মঞ্জুর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে একদল মানুষ। এরপর তিনি বাড়ির ছাদে উঠে সবার কাছে ক্ষমা চাইলে বিক্ষুব্ধরা ভাঙচুর করে স্থান ত্যাগ করে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আলতাফ হোসেন বাচ্চুর অফিসেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিউমার্কেট মোড় থেকে একটি দল গিয়ে দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেয়। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে কোতোয়ালী থানার পেছনে পাথরঘাটায় রাউজানের সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বাসায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

নগরীর পাথরঘাটায় রাউজানের সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বাসাতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে নগরীর সল্টগোলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় হাজারখানেক মানুষ সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিচ্ছেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সল্টগোলা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

আজ সন্ধ্যায় বন্দর থানাধীন মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মধ্যম হালিশহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এক পুলিশ সদস্য এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের ফাঁড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে, আমরা এখন সবাই বাইরে আশ্রয় নিয়েছি।

এদিকে নগরীর হাজারি গলিতেও বিভিন্ন দোকানপাটে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে। এ সময় হাজারী গলি মন্দিরেও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা হয়েছে— এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এছাড়া বিকেলে সেনাবাহিনী প্রধানের প্রেস ব্রিফিংয়ের পর পর নগরীর অলি-গলি সড়কে নেমে আসে জনতার ঢল।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার পর চট্টগ্রামে হাজার হাজার মানুষ পথে নেমে উল্লাস করেছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হচ্ছে। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা বিভিন্ন জায়গায় লুটতরাজও শুরু করেছে।

খখ/মো মি

আগেঅন্তর্বর্তীকালীন সরকার: যেভাবে গঠন হবে, যাদের নাম আলোচনায়
পরে“রাজনৈতিক ক্রান্তিকাল চলছে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে”-সেনাপ্রধান