খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফ মাহমুদ অপুকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
পরে তাঁর জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু বক্কর ছিদ্দিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই দিন দুপুরে তাঁকে ডবলমুরিং থানা থেকে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের হাজতখানায় আনা হয়।
সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন জানান, শরীফ মাহমুদকে আদালতে হাজির করা হলে তার জামিনের আবেদন করা হয়। পরে আদালত শুনানি শেষে তাঁকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রফিক আহমেদ বলেন, শুক্রবার দুপুরে ওনাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান করা হয়েছে। সম্ভবত পরে দুদকের মামলায় এই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে পারে।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছানোয়ার আহমেদ লাভলু জানান, শুক্রবার আদালত বন্ধ থাকায় দুদকের কোনো মামলার শুনানি ছিল না। আগামী রবিবার কর্মদিবসে ওনার (সাবেক স্বরাষ্ট্র কর্মকর্তা) বিষয়ে জানা যাবে, যদি ওনাকে শ্যোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার) দেখানো হয়ে থাকে।’
মো. শরীফ মাহমুদ অপু কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের ইঞ্জিনিয়ার জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তাঁর বাবা কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বদলি করে বাংলাদেশ বেতারে পাঠানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে বাংলাদেশ বেতারের নিজ কার্যালয়ে এই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, গত বছরের ৪ আগস্ট অপুর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশে কারফিউ জারি হয়েছিল। তাই তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
পরে বিকেলে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই কর্মকর্তাকে হেফাজতে নেয় ডবলমুরিং থানা-পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা না থাকায় ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শরীফ মাহমুদ অপু তেজগাঁও-হাতিরঝিল থেকে নির্বাচিত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রায় ১০ বছর জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন।
অভিযোগ আছে, অবৈধ আয়ের অর্থে বাড়ি, গাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট এমনকি ব্যাংককের পাতায়ায় রেস্টুরেন্ট দিয়েছেন তিনি। রাজধানীর বসুন্ধরা, উত্তরা ও গুলশানে বেশ কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করেছেন। নিজের ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে রয়েছে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
আরও অভিযোগ আছে, পুলিশের এসপি, ওসি ও এসআই বদলির পাশাপাশি তিনি অন্তত অর্ধশত ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের লাইসেন্স পাইয়ে দিয়েছেন। যার বিনিময়ে অপু নিজের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের জন্য নিয়েছেন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা করে। এসব টাকার বড় একটি অংশ দিতে হতো কামালের ছেলে অথবা তাঁর স্ত্রীর কাছে।
চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি শরীফ মাহমুদ অপুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শরীফ মাহমুদ অপু ৫৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৭ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদকের অনুসন্ধানে এ তথ্য পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নেতৃত্বের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগে উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গত ১৫ আগস্ট একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আগেই মামলা দায়ের করেছে দুদক। পরবর্তী পর্যায়ে অপুর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
খখ/মো মি


