খাসখবর বিনোদন ডেস্ক➤ সবাইকে বলেছি, আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। যদি আমি মরে যাই, মনে করবেন আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আর আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আমাকে হত্যার বিচার করবেন। উপরোক্ত কথা গুলো বলেছেন, ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনি।
অভিনেত্রী পরীমনি তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। প্রথমে ফেসবুকে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে অভিযোগ তোলার পর রাতে সাংবাদিকদের বনানীর বাসায় ডেকে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেছেন তিনি।
রবিবার (১৩ জুন) সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি দুজনের নাম প্রকাশ করে জানান, একজন ঢাকা বোটক্লাবের সাবেক সভাপতি নাছির ইউ. মাহমুদ এবং অন্যজন তার (পরীমনি) কস্টিউম ডিজাইনার জেমীর স্কুলবন্ধু অমি নামের এক ব্যবসায়ী। এসময় পরীমনি আরও জানান, নাসির ইউ. মাহমুদ বেনজীর আহমেদের (পুলিশ মহাপরিদর্শক) বন্ধু/ভাই বলে পরিচয় দেয়।
পরীমনি বলেন, ‘গত বুধবার (৯ জুন) রাত ১২টায় আমাকে বিরুলিয়ায় নাসির ইউ. মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। সেসময় নাসির ইউ. মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোটক্লাবের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।’
‘সেখানে নাসির ইউ. মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করেন। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। তারপর আমাকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।’
এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে বনানী থানায় গিয়েছিলেন দাবি করে পরীমনি বলেন, ‘থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার অভিযোগ শুনলেও লিখিত কোনো কাগজপত্র নেয়নি। থানা থেকে তেমন কোনো সাড়া না পেয়ে চলে আসি। এমনকি ৯৯৯ এ কল দিয়েও সাড়া পাইনি।’ এখন নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিচার চেয়ে শিল্পী সমিতির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন জানিয়ে পরীমনি দাবি করেন, শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (অভিনেতা) জায়েদ খান তাকে আশ্বস্ত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।
এর আগে এদিন রাত ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি পোস্টেও এমন অভিযোগ করেন পরীমনি। সেই পোস্টে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টাকারীদের বিচার চেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে ওই পোস্টে পরীমনি জানান, তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে তাকে।
পরীমনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন—
“বরাবর,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আমি পরীমণি।
এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক। আমার পেশা চলচ্চিত্র।
আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।
আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার ? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজির আহমেদ আইজিপি
স্যার! আমি কাউকে পাইনা মা।
যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনা বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!
আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারিনা। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পরে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো।
আফসোস ছাড়া কারোর কি করবার থাকবে তখন!
আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা?
আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোন অন্যায় মেনে নিতে!
আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহুর্ত মাকে খুব দরকার এখন,
মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে , ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার ,একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার।
আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা।
মা আমি বাচঁতে চাই।
আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা”
সাংবাদিকদের যা জানালেন পরীমনিঃ
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি তাকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। এখন নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
রোববার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় পরীমনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম এই অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি লেখেন। এরপর সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে তিনি তৎক্ষণাৎ তার নিজ বাসায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি বলেন, ‘গত চারদিন ধরে একজন সাধারণ মেয়ে হিসেবে আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কিন্তু কারো হেল্প পাইনি।
সবাইকে বলেছি, আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। যদি আমি মরে যাই, মনে করবেন আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আর আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ আপনারা আমাকে হত্যার বিচার করবেন।
এর আগে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আলোচিত এই অভিনেত্রী জানান, নাসির ইউ. মাহমুদ নামে একজন তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে এ ঘটনা ঘটাতে চেষ্টা করেছিলেন।
পরীমনি বলেন, ‘আমার কস্টিউম ডিজাইন করেন জিমি, আমাদের কাজের বাইরেও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তার মাধ্যমে অমির সঙ্গে আমার পরিচয়। উনি বাসায় আসেন চারদিন আগে (ঘটনাটির দিন রাতে)। এর আগে সিনেমার ব্যাপারে মিটিংয়ের জন্য ডেট চাচ্ছিল কিন্তু আমি সময় দিতে পারছিলাম না। আমার নানু কয়েকদিন আগে অসুস্থ ছিলেন সেটা আপনারা জানেন। ’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বুধবার রাত ১২টায় আমাকে বিরুলিয়ায় নাছির ইউ. মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। সেসময় নাছির ইউ. মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। সেখানে নাছির ইউ. মাহমুদ আমাকে মদ খেতে অফার করে। আমি রাজি না হলে আমাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আমাকে চড় থাপ্পড় মারে। তারপর আমাকে নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ’
এরপর সাংবাদিকদের সামনে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানান পরীমনি। একইসঙ্গে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিজের সঙ্গে ঘটা এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না পরীমনি। তাই তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে কাজ করছে পুলিশঃ অভিনেত্রী পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতোমধ্যেই তার ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি আমলে নিয়ে অভিযোগগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে।
এছাড়াও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে কাজ করছে পুলিশ।
রোববার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে বনানীতে অভিনেত্রী পরীমনির বাসায় যায় বনানী থানা পুলিশ।
সেখানে গিয়ে ফেসবুকে দেওয়া তার স্ট্যাটাসের বিষয়ে এবং তার করা অভিযোগের বিষয়টি শুনেছেন পুলিশ সদস্যরা। পরীমনির অভিযোগগুলো শোনার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
যদিও এ বিষয়ে লিখিতভাবে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি পরীমনি।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পরীমনির স্ট্যাটাস পুলিশ সদর দফতরের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
খখ/মো মি


