খাসখবর জাতীয় ডেস্ক➤প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি মাস থেকে গণটিকা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিমাসে এক কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সবাইকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা এখনো ভ্যাকসিন নেননি, তাদের দ্রুত এই ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের ৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মেয়াদের তিন বছর পূর্তি ও চতুর্থ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো থেকে সম্প্রচার করা হয়েছে।
চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক এই মহামারির কারণে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে আমাদের গত ২০২০ ও ২০২১ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সংকট এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই আবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের এখনই সাবধান হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
দ্রুত করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন পূর্ণোদ্যমে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রয়োগের কাজ চলছে। চলতি মাস থেকে গণটিকা কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিমাসে এক কোটি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছেন প্রায় ৭ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ, আর দুই ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন ৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার মানুষ। গত মাস (ডিসেম্বর) থেকে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে আমাদের হাতে সাড়ে ৯ কোটিরও বেশি ডোজ ভ্যাকসিন মজুদ আছে।’
মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা সে প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি কয়েকটি বিষয় আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। তার মধ্যে বিদ্যুৎ বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির কথা আপনাদের মনে আছে। তখন সর্বসাকুল্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল ৪২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর পায়রাতে এরই মধ্যে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। রামপাল, পায়রা, বাঁশখালী, মহেষখালী এবং মাতারবাড়িতে আরও মোট ৭ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো, বর্তমানে যা ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের অব্যাহত চাহিদা মেটাতে ২০১৮ থেকে তরলিকৃত গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। নববর্ষের শুরুতে আমাদের জন্য সুখবর হচ্ছে: বঙ্গোপসাগরে যে গ্যাস হাইড্রেটের সন্ধান পাওয়া গেছে তার পরিমাণ ১৭ থেকে ১০৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
সরকারপ্রধান বলেন, আজ খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমানে দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে। অব্যাহত নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে এ বিপ্লব সাধিত হয়েছে। মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্তজলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।
সরকারপ্রধান বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত ১৩ বছরে আমরা আপনাদের জন্য কী কী করেছি, তা আপনারাই মূল্যায়ন করবেন। তবে, আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি আমরা যেসব ওয়াদা দিয়েছিলাম, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হওয়ার পর, ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি শেখ হাসিনা চতুর্থ বারের মতো (টানা তিন বার) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
খখ/মো মি


