খাসখবর জাতীয় ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী যে মন্দা দেখা দিচ্ছে, তা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। তার প্রভাব আমাদের ওপর আসতে পারে। কাজেই আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।
তিনি বলেন, ’রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তবে সরকার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। এ জন্য প্রকৃতপক্ষে সেভাবে দেশে পণ্যের দাম বাড়েনি।
আজ শনিবার (৭ মে) গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিনিসপত্রের দাম সারা বিশ্বে বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের হিসাব নিলে দেখা যাবে, কোথাও ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি। ইউরোপের কোনো কোনো দেশে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি রয়েছে। ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে না। লন্ডনে রেশনিং করে দেওয়া হয়েছে। কেউ এক লিটারের বেশি তেল কিনতে পারে না। প্রতিটি জিনিস সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিতে হবে। এর বেশি নিতে পারবে না। সারা বিশ্বে এই অবস্থা।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের শিপিংয়ের ভাড়া এত বেড়ে গেছে যে যেসব দেশ থেকে আমরা পণ্য আমদানি করি, সেই আমদানির ওপর প্রভাব পড়ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর তার প্রভাব ইউরোপ-আমেরিকার ওপরও পড়েছে।’
উদ্যোগ নিলে ভোজ্যতেল দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশে ধানের তুষ দিয়ে তেল উৎপাদন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী যে মন্দা দেখা দিচ্ছে, তা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। তার প্রভাব আমাদের ওপর আসতে পারে। কাজেই আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।’
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষ এবার ঈদে নির্বিঘ্নে বাড়ি গেছে ও ফিরছে।
মানুষ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে উৎসব করায় অর্থ সরবরাহ বাড়ে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ঈদে সবাই গ্রামের বাড়ি যায়। বিশ্বে অনেক দেশে এটা কমে গেছে। গ্রামের যাতায়াতব্যবস্থা ভালো হচ্ছে। তৃণমূল থেকে উন্নয়ন হচ্ছে। গ্রামের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরাধীনদের অনুসরণ করব না। নিজস্বভাবে দেশের উন্নয়ন করব, মাথা উঁচু করে চলব।’ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারা আরও অব্যাহত রাখতে হবে। জনগণকে ধন্যবাদ, তারা বারবার ভোট দিয়েছে, টানা তিনবার ক্ষমতায় রেখেছে। অনেক উন্নয়ন হয়েছে, জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।
খখ/মো মি


