খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক➤চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ এম এ সালামকে আবারও প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ১০ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম এ নিয়োগ পান।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ছয় মাসের জন্য আমাকে সরকার প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তখন যিনি প্রার্থী হয়ে জয়ী হবেন তার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করব।’
এর আগে গত ১৭ এপ্রিল মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চট্টগ্রামসহ দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করেছিল সরকার। বিলুপ্ত করা জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনার জন্য পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম ২০১৭ সাল থেকে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর পূর্বে তিনি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের ৬১ জেলায় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি নির্বাচিতরা শপথ নেন। ওই বছরের জানুয়ারি মাসেই জেলা পরিষদগুলোর প্রথম বৈঠক হয়। ফলে পরিষদের ৫ বছরের মেয়াদ গত জানুয়ারিতেই শেষ হয়েছে। জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জেলা পরিষদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকেরাই দায়িত্ব পালন করবেন। তবে যাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, মূলত তারাই ভবিষ্যতে পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে লড়বেন। বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে জেলায় অন্তর্ভুক্ত সিটি করপোরেশন (যদি থাকে), উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।
জনপ্রতিনিধিরা শুধু ভোটই দিতে পারবেন, প্রার্থী হতে পারবেন না। আর বাংলাদেশের ২৫ বছর বয়সী যেকোনো ভোটার জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারলেও ভোট দিতে পারবেন না।
জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইনে জেলা পরিষদে বিদ্যমান ১৫ জন সাধারণ সদস্যের স্থলে উপজেলার সমানসংখ্যক সদস্য থাকার বিধান করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ৮২ নম্বর ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে, এতে কোনো জেলা পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এবং পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।
প্রশাসকের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হবে না। একই সঙ্গে একাধিকবার কেউ প্রশাসক থাকতে পারবেন না। সংশোধিত আইন অনুসারে জেলা পরিষদগুলোর সদস্যসংখ্যা গতবারের তুলনায় এবার কমতে পারে। গতবার সব জেলা পরিষদেই একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যসহ মোট ২১ জন নির্বাচিত হন। সংশোধিত আইনে প্রতি উপজেলায় একজন সদস্য ও চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ এবং কমপক্ষে দুজন নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। ছোট জেলার সদস্যসংখ্যা অনেক কমে আসবে এবং বড় কয়েকটি জেলার জেলা পরিষদে সদস্যসংখ্যা বাড়বে।
এইচ এম এরশাদের আমলে গঠিত জেলা পরিষদে সংসদ সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে জেলা পরিষদ আইন প্রণয়ন করে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে জেলা পরিষদ পরিচালনা করে। আওয়ামী লীগের নেতারাই মূলত প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান।
দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর। সে সময় তিন পার্বত্য জেলা বাদে দেশের ৬১টি জেলায় নির্বাচন হয়। নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা শপথ নেন ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি আর সদস্যরা শপথ নেন ১৮ জানুয়ারি।
খখ/মো মি


