খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্কঃ চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র জাহিদুল ইসলাম খুনের ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে চন্দনাইশ থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার আসামি হলেন— বাহাদুর মিয়া (৩৫)। পিতা- আবু তাহের, সাং-দক্ষিণ জোয়ারা (জিহস ফকির পাড়াস্থ কুলিম্যা পাড়া), ৬ নং ওয়ার্ড, চন্দনাইশ পৌরসভা।
তিনি কলেজছাত্র জাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার ৭ নম্বর আসামি।
চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় প্রথমে দিনাজপুরে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে দিনাজপুরে অভিযানের খবর পেয়ে সে পিরোজপুর পালিয়ে যায়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এরআগে ১৮ মে (বুধবার) পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’পক্ষের মারামারিতে ছুরিকাঘাতে আহত হয় কলেজছাত্র জাহিদুল ইসলাম। সেখান থেকে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আহত হয় আরও দুজন।
পরে এ ঘটনায় ২০ মে সন্ধ্যায় নিহত জাহিদুলের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সাত জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে চন্দনাইশ থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি রাখেন আরও ৭ থেকে ৮ জনকে।
মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, নিহত জাহিদুল এলাকায় মাদক ও খারাপ কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতো। এ কারণে এলাকার কিছু খারাপ লোক তার শত্রুতে পরিণত হয়। বুধবার সন্ধ্যায় কুলিমা পাড়াস্থ এলাকায় চাচাতো ভাইয়ের বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে গতিরোধ করে সিএনজি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে নেয় ‘কিশোরগ্যাংয়ের’ কয়েকজন সদস্য। একপর্যায়ে ‘কিশোরগ্যাংয়ের’ কয়েকজন সদস্য জাহিদুলের দুহাত ধরে রাখে এবং তাদের লিডার তলপেটে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে ছুরিকাঘাতের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের পরও তাকে সবাই মিলে ধরে রাখে। ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে জাহিদুলকে ছেড়ে দিয়ে চাচাতো ভাইকেও কিলঘুষি লাথি মেরে ছুরিকাঘাত করে। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে কিশোরগ্যাংয়ের সদস্যরা পালিয়ে যায়। তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে রাত ১১টার দিকে জাহিদুলের মৃত্যু হয়।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলেজছাত্র জাহিদুল ইসলাম হত্যা মামলার পলাতক আসামি বাহাদুর মিয়াসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়। এরমধ্যে চন্দনাইশ, পটিয়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, ধোপাছড়ি, বান্দরবান, রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি ও দিনাজপুরে অভিযান চালায় তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে ‘টিম চন্দনাইশ’। দিনাজপুরের অভিযানের খবর পেয়ে বাহাদুর পিরোজপুরে পালিয়ে যায়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ জুন (শুক্রবার) তাকে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। জাহিদুল ইসলাম হত্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আজ ১১ জুন আদালতে সোপর্দ করা হবে।
খখ/মো মি


