খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্কঃ টানা একদিনের বর্ষণে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চল। ১৯ জুন (রোববার) রাত থেকে ২০ জুন( সোমবার) সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণে নগরীর সড়ক, অলিগলি তলিয়ে যায় হাঁটু থেকে কোমর পানিতে। বাসা-বাড়ির নিচতলায় জমে যায় পানি। নিচু এলাকার দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়েছে। অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে চট্টগ্রাম
মহানগরীর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের।
সোমবার সকালেও ছিল একই দৃশ্য। জলাবদ্ধতার সঙ্গে ভারি বৃষ্টি স্কুল-কলেজ ও অফিসগামীরা ভোগান্তিতে পড়েন। সকাল থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, ডিসি রোড, কেবি আমান আলী রোড, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২নং গেট এলাকায় জলজটের দুর্ভোগ ছিল বেশি। একইসঙ্গে লালখানবাজার-বহদ্দারহাট আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যানজটের কবলে পড়েছে অসংখ্য গাড়ি।
এছাড়াও নগরীর বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও ও কোতোয়ালি থানার নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়। এসমস্ত এলাকার অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে জলজটের সৃষ্টি সীমাহীন দুর্ভোগে জনগন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার (২০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। চট্টগ্রামের এ বৃষ্টিপাত সারাদেশের মধ্যে রেকর্ড বৃষ্টি বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তাছাড়া আগামী দুই থেকে তিনদিন ভারি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
চারদিনের টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, শুলকবহর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২নং গেট বাদেও বাকলিয়া ডিসি রোড, আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, মোগলটুলি, ট্রাঙ্ক রোড, তালতলা, চাঁন্দগাও আবাসিক, খতিবের হাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, ফিরিঙ্গিবাজার, আলকরণ, বাকলিয়া আবদুল লতিফ হাটখোলা সড়কে পানি জমে যায়।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে সোমবার সকালে নগরীর কাতালগঞ্জ এলাকার খান বাড়ির নিচ তলায় পানি জমে আইপিএসের বিদ্যুতে শর্ট সার্কিট হয়ে বাসার দারোয়ান ও গাড়ির চালকসহ ২জন মারা গেছেন। একইভাবে পাঁচলাইশের চশমা হিলে পাহাড় ধসে স্কুলপড়ুয়া এক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একইভাবে গত শুক্রবার দিবাগত রাতেও আকবর শাহ এলাকায় পাহাড়ধসে দুই পরিবারের চারজন প্রাণ হারায়।
নগরী বাদেও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে। হাটহাজারি সড়কে পানি জমে যাওয়ার কারণে যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি সড়কের অসংখ্য যানবাহনকে। এতে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী দুই থেকে তিনদিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি পাহাড়ধসের সতর্কতা বার্তা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বহদ্দারহাটস্থ বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী চান্দগাঁও থানা ভবনের নিচতলা।বহদ্দারহাটের বহদ্দার বাড়িতে মেয়রের নিজের বাসভবনের নিচতলায় হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়।
একইভাবে সিএমপির চান্দগাঁও থানা ভবনের নিচতলা ডুবে যায়। থানা ভবনের সামনে হয় কোমর পানি। থানার নিচতলার অবস্থিত ডিউটি অফিসার, ওসির চেম্বার, ওসি(তদন্ত), সেকেন্ড অফিসার, অফিসারদের অফিসরুম, হাজতখানা, সেরেস্তারুম সব জায়গায় হাঁটু পরিমাণ পানি উঠায় থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
চান্দগাঁও থানা ভবনের নিচতলা ডুবে যাওয়ায় ১৯ জুন (রোববার) রাতে থানার দ্বিতীয় তলায় ডাইনিং হলে বসে সেকেন্ড অফিসার মো. নুরুল ইসলাম ও ডিউটি অফিসার মো.বেলালকে কাজ করতে দেখা গেছে।
এপ্রসংগে সেকেন্ড অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বলেন, থানা ভবনের নিচ তলায় পানি উঠায়, থানার গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু নিরাপদে রেখে দ্বিতীয় তলায় বসে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
জানা গেছে, ভারীবর্ষণ হলেই মেয়র ভবন ও চান্দগাঁও থানার নিচতলা ডুবে যায়।
মেয়রের বাসার সিকিউরিটি গার্ড মাসুদ রানা জানান, মেয়র দোতলায় থাকেন। মেয়রের গাড়িটি বাসার সামনে থাকে। পানি উঠার কারণে গাড়িটি পানির মধ্যেই রাখতে হয়েছে। সামনের রাস্তায় পানি আরও বেশি।
একই অবস্থা বিরাজ করছে বহদ্দারহাট ও চান্দগাঁও থানা এলাকার নিচ তলায় অবস্থিত অফিস-বাসাবাড়ির।
খখ/মো মি


