পটিয়ার শামসুল আলম মাস্টারের ছেলে খুন করলো তার মাকে

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্কঃ চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র, জাতীয় পার্টি নেতা শামসুল আলম মাস্টারের ছেলে মাইনুল ইসলাম খুন করেছে তার মা জেসমিন আক্তার (৫৫)কে। মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) নিজ বাসায় ছেলে মাইনুল ইসলামের (৩৫) গুলিতে নিহত হন তিনি।

thai foods

ছেলের ছোড়া গুলিতে প্রাণ হারানো জেসমিন আক্তার (৫৫) থাকতেন অস্ট্রেলিয়ায়। রোজার মধ্যে দেশে এসেছিলেন। গত ১৩ জুলাই হারিয়েছেন স্বামী শামসুল আলম মাস্টারকে। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পটিয়া পৌরসভার প্রথম মেয়র ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর কারণে অস্ট্রেলিয়া যেতে বিলম্ব হয় জেসমিনের।

আগামী ২ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার প্লেন ধরার কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) ছেলে মাইনুল ইসলামের (৩৫) গুলিতে নিহত হন তিনি।

নিহত জেসমিন আক্তারের ভাই জামাল উদ্দীন বলেন, তিন ভাই ছয় বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন আমার বোন জেসমিন। সে অনেকদিন অস্ট্রেলিয়া ছিল। গত পৌরসভা নির্বাচনের সময়ে দেশে এসেছে। আবার অস্ট্রেলিয়া চলে যেতো।
হঠাৎ শামসুল আলম ভাইয়ের মৃত্যু কারণে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমার বোনের হত্যার বিচার চাই। আমার ভাগিনা মাঈনুকে যারা আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিয়েছে তাদেরও বিচার চাই। গুলির করার পর মাঈনুকে এলাকাবাসী খুঁজছে। মাঈনু নেশাগ্রস্ত ছিল। সে মাদক গ্রহণ করলে কাউকে চিনতে পারতো না।

নিহতের বড় মেয়ে ও হত্যাকারীর বোন শায়লা শারমিন নিপা দাবি করেন, ‘মাইনুল মাদকাসক্ত ছিল। বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিজ নামে লিখে নিতে মাকে বাধ্য করতে গিয়ে গুলি করে।’

নিপা বলেন, ‘আমার মা সকালে সোনালী ব্যাংক পটিয়া শাখায় যান। বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি ছিলেন মা। বাবার মৃত্যুর পর মা ব্যাংকে গিয়ে টাকা-পয়সা কত আছে তা যাচাই করেন। তিনি ব্যাংক থেকে দুপুরে বাড়িতে আসার পর মায়ের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে মাইনুল। সে বলে, তাকে না বলে কেন মা ব্যাংকে গেছে। এই নিয়ে ঝগড়া শুরু করে। এর মধ্যে সম্পত্তি যা আছে সবটুকু তার নামে লিখে দিতে চাপ দেয়। এতে মা রাজি না হলে অস্ত্র বের করে। প্রথম গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘরের দেয়ালে লাগে। এরপর আরেকটি গুলি করে। সেটি মায়ের চোখে লাগে। ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়। গুলি করে মাইনুল পালিয়ে যায়। মাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তিনি বলেন, মাঈনুলের বউ ও তার শাশুড়ি সবসময় সম্পত্তির কথা বলতো৷ তাদের কথা শুনে সম্পত্তির জন্য বিভিন্ন সময় মায়ের সঙ্গে ঝামেলা করতো। শ্বশুর বাড়ির উস্কানিতেই মাঈনুল মাকে গুলি করে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ জুলাই অসুস্থতার কারণে বাবা মারা যান। আমার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মাস্টার। বাবার মৃত্যুর পর অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাইনুল। মা-বাবার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে মাইনুল মেজো। ছোট ভাই মাশফিকুর রহমান মাশফি অস্ট্রেলিয়ায় থাকে। সেখানে লেখাপড়া করে। মাও অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। দেশে বেড়াতে এসেছেন।’

নিহতের স্বজন মীর মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ‘জেসমিন আক্তার অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। গত ২০ রমজান তিনি দেশে আসেন। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পুনরায় অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার কথা ছিল। আরও আগে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে স্বামী শামসুল আলম মাস্টার মারা যাওয়ায় ঠিক সময়ে যেতে পারেননি। স্বামীর মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে যেতেন।’

জেসমিন আখতারের আরেক আত্মীয় শাহাজাদা মিজান বলেন, মাঈনুল মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করেছেন। এখনো অনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িতে আনা হয়নি। বাবার মৃত্যু পর সব জায়গা সম্পত্তি ও নগদ টাকা সে ভোগ করতে চেয়েছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে পটিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ ঘরে ছেলের গুলিতে নিহত হন জেসমিন আক্তার। মাইনুল চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকায় থাকেন। তিনি বিবাহিত। যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

এদিকে, বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বড় ছেলে মাইনুলের গুলিতেই নিহত হয়েছেন জেসমিন আক্তার। গুলিটি লেগেছে বাম চোখে। ঘর থেকে কয়েকটি ব্যবহৃত গুলির খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক মাইনুল ইসলাম। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।’ ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ
এসআই মো.আশেক উল্লাহ বলেন, ‘বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।’

পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘মাইনুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।’

খখ/মো মি

আগেমা হচ্ছেন বিপাশা বসু
পরেএবার সেই এডিঃএসপি মহরম আলীকে বদলি করলো চট্টগ্রামে