অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেলসহ বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

রাউজান থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানঃ
thai foods

খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্কঃ চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া থেকে ডাকাতির প্রস্ততিকালে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

thai foods

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত রাউজান উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালায় রাউজান থানা পুলিশের বিশেষ দল।

এ সময় তাদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল-সহ ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অস্ত্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেল রয়েছে দুইটি। এছাড়া ইতালি নির্মিত একটি ৭ পয়েন্ট ৬৫ পিস্তল, একটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, একটি এক নলা বন্দুক, একটি এলজি বন্দুক ও ১১৩ রাউন্ড বুলেট, ১০টি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

বুধবার (১৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার রশিদুল হক জানান, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন নোয়াপাড়া ও একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ৩ সন্ত্রাসীকে আটক ও আটককৃতদের দেহ ও বসভঘর তল্লাশি করে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার রশিদুল হক বলেন, ‘বিদেশী এই অস্ত্রগুলো তাদের হাতে কিভাবে এলো সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এদের পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।’

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উদ্ধার করা বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিন সন্ত্রাসীকে উপস্থিত করে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার এসএম রাশিদুল হক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কবির আহমদ, সুজন চন্দ্র সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, সহকারি পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম, রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন।

পুলিশ সুপার এসএম রাশিদুল হক বলেন, দীর্ঘ সময় পলাতক থাকা এসব সন্ত্রাসী এখন সংগঠিত হয়ে ডাকাতিসহ অপরাধ কর্মের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ তাদের অবস্থান সনাক্ত করে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করতে সমর্থ হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসীরা হলো, দক্ষিণ রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের রাজাপাড়ার মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে মো. নুরুল আবছার (৪৩), একই ইউনিয়নের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে কামরুল হাসান টিটু (৫৫) ও হাটহাজারীর কুয়াইশ এলাকার মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে গিয়াসউদ্দিন বাবলু ওরফে সাদ্দাম (৩০)।

পুলিশ সুপার জানান, রাউজান-রাংগুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম ও রাউজান থানার ওসি আবদুল্লাহ আল হারুন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় ডাকাতির প্রস্ততিকালে উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী নোয়াপাড়া পলোয়ান পাড়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে কামরুল হাসান টিটুসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
অপর ‍দুইজন হলেন নোয়াপাড়া রাজারপাড়া এলাকার মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে নুরুল আবছার ও হাটহাজারী কুয়াইশ বাদামতল এলাকার কামাল উদ্দীন। পরে তাদের দেহ ও বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে দুটি একে-২২, একটি ইতালিতে নির্মিত পিস্তল, একটি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, একটি একনলা বন্দুক, একটি এলজি বন্দুক, ৯৫টি বুলেট, আট রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম বুলেট, ১০টি শটগানের কার্তুজ ও একটি হিরো হোন্ডা উদ্ধার করা হয়।

এসপি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটুর বিরুদ্ধে ৯৬ সালে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে হাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ও একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী গঠিত রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) মাধ্যমে রাউজানে কামরুলের উত্থান হয়েছিল। এনডিপি ক্যাডার ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ফজল হকের সহযোগী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। পরবর্তী সময়ে সাকা চৌধুরী এনডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে ফজল হকের সঙ্গে কামরুল এবং নুরুল আবছারও ওই দলে ভিড়ে যায়।

তিনি বলেন, এনডিপির ক্যাডার হিসেবে কামরুল ১৯৯৬ সালে নোয়াপাড়া পুলিশ ক্যাম্প লুট ও পুলিশ হত্যা, চাঞ্চল্যকর শ্রীকান্ত রক্ষিত হত্যা এবং নোয়াপাড়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হত্যাসহ আটটি খুনের ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৭টি মামলা আছে।

২০১৬ সালে যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তার ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। রাউজান থেকে একাধিকবার বিএনপির মনোনয়নে সংসদ নির্বাচনও করেন। কামরুল ও নুরুল আবছার পরবর্তী সময়ে গিয়াসউদ্দিন কাদেরের ক্যাডার হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পায়। গ্রেফতার গিয়াসউদ্দিন বাবলু ওরফে সাদ্দাম টাকার বিনিময়ে ডাকাতি-খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে অংশ নেয় বলে ওসি জানিয়েছেন।

খখ/মো মি

আগে“আমাদের বিচার চাইতেও বাধা দেওয়া হয়েছে”-প্রধানমন্ত্রী
পরেস্বর্ণের দাম ভরিতে কমলো ২ হাজার ৩০৪ টাকা