যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ঋষি সুনাক

thai foods

খাসখবর আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতীয় বংশোদ্ভূত ঋষি সুনাক যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। পেনি মর্ডান্ট সরে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তিনি। তাকে ঘিরে ভারতেও আগ্রহের কমতি নেই। শেষ পর্যন্ত সত্যিই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে যাচ্ছেন ঋষি সুনাক।

thai foods

সোমবার (২৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

প্রথম ব্রিটিশ এশিয়ান এবং এক শতকের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তিনি। লন্ডনের স্থানীয় সময় আজ সোমবার বেলা ২টায় তাকে ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির (টোরি) নেতা ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয় স্থানীয় সময় রোববার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের লড়াই থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন বরিস জনসন। প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারায় ছিটকে গেছেন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী পেনি মর্ডান্টও। ফলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটেনের সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকের।

কনজারভেটিভ পার্টির ১৯২২ কমিটির চেয়ারপারসন স্যার গ্রাহাম ব্রাডি ঘোষণা করেন, দলের নতুন নেতা নির্বাচনে শুধু সুনাকের মনোনয়নপত্র পেয়েছেন তারা। সে কারণে তাকে নতুন দলীয় প্রধান ঘোষণা করা হলো।

শিক্ষা ও কর্মজীবনঃ
সুনাকের বাবা যশবীর ও মা ঊষা – দুজনেরই জন্ম ভারতের পাঞ্জাবে, ভালো কাজের সুযোগে ও পড়াশুনোর জন্য তারা বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। যশবীর সুনাক ব্রিটেনে একজন জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) ডাক্তার হিসেবে ও ঊষা সুনাক ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।

মেধাবী ছাত্র সুনাক আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ফুলব্রাইট স্কলার হিসেবে এমবিএ-ও করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুনাক ব্রিটেনের চ্যান্সেলর অব এক্সচেকার (অর্থমন্ত্রী) হন। সুনাকের আর একটা পরিচয় হল, তিনি ভারতের বিখ্যাত শিল্পপতি ও ইনফোসিসের প্রতিষ্ঠাতা এন আর নারায়ণমূর্তির জামাতা। নারায়ণমূর্তির কন্যা অক্ষতার সঙ্গে তার আলাপ স্ট্যানফোর্ডেই, পরে তারা দু’জনে বিয়ে করেন।

সুনাক অর্থমন্ত্রী থাকাকালীনই জানাজানি হয়, তার স্ত্রী অক্ষতা ট্যাক্সের কারণে ‘নন ডমিসাইলড’ – অর্থাৎ বিদেশে তার উপার্জিত অর্থের জন্য তিনি ব্রিটেনে কোনও আয়কর দেন না। যদিও এর মধ্যে বেআইনি কিছু নেই, তবু ঋষি সুনাকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বিরাট অস্বস্তি বয়ে এনেছিল।

রাজনৈতিক জীবনঃ
রাজনৈতিক জীবনে ২০১৫ সালে ইয়র্কশায়ারের রিচমন্ড কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের মতো সাংসদ হন ঋষি সুনাক। থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি ‘লোকাল গভর্নমেন্ট’-এর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আর ২০১৯ সালে বরিস প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার গুরুত্ব আরও বাড়ে। এরপর সরাসরি অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। বর্তমানে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টিতেও জনপ্রিয় মুখ তিনি। এদিকে তরুণ প্রজন্মের নেতা হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে সুনাকের।

জনসনের সরে যাওয়ার ঘোষণায় ঋষি সুনাককে এগিয়ে রেখে শিরোনাম করেছে ব্রিটেনের অধিকাংশ জাতীয় সাংবাদ মাধ্যম।

দ্য ডেইলি এক্সপ্রেসে জানিয়েছে, বরিস জনসন ডাউনিং স্ট্রিট ১০- এর দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোয় প্রধামন্ত্রীর মুকুট পাচ্ছেন ঋষি। আর দ্য সানে এসেছে, জনবিশৃঙ্খলা এড়াতে জনসন না দাঁড়ানোয় পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ঋষি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিষিকে নিয়ে আশার খবর শুনিয়েছে দ্য ডেইলি মিররও।

যুক্তরাজ্যে পার্লামেন্টে মোট ৩৫৭ জন কনজারভেটিভ আইনপ্রণেতা রয়েছেন। তাদের ১৪২ জন ইতিমধ্যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুনাককে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। রবিবার রাত পর্যন্ত ২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী পেনিকে সমর্থনের কথা বলেছেন। ফলে পেনিকে এখনও ৭৬ জন এমপি’র সমর্থন আদায় করতে হবে। পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে শিগগিরই জানা যাবে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন।

খখ/মো মি

আগেডেঙ্গুতে মৃত্যু ৫, হাসপাতালে ভর্তি ৯০৩
পরেঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মধ্যরাতে অতিক্রম করবে ভোলা ও চট্টগ্রামের উপকূল