খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্কঃ সিএমপির চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা করে ছিনিয়ে নেওয়া সেই মাদক ব্যবসায়ী হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। একইসঙ্গে তার ভাই কথিত হিজড়া ইয়াসিনসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ জনকে।
মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে ভাটিয়ারি এলাকায় ঢাকামুখী একটি বাস থেকে হানিফ ও হিজড়া ইয়াসিনকে 
গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ আলী হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে বাসে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় রাত ১১টার দিকে হানিফ ও তার ভাই ইয়াসিনকে ভাটিয়ারি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি। সম্ভবত তারা নিজ এলাকা পটুয়াখালী অথবা ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিল। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে, গতকাল সোমবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মৌলভীবাজার রেললাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে ফাড়ির ইনচার্জ এসআই শরীফ রোকনুজ্জামানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া ওয়ারলেস সেটটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, কালুরঘাট ফাঁড়িতে হামলা করে মাদক ব্যবসায়ী হানিফকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আরও তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ। হানিফের দেওয়া তথ্যমতে তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তিন সহযোগী হলো— মহিউদ্দিন শরীফ (২৩), রেজাউল করিম (২০) এবং হৃদয় (২১)।
সিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (দক্ষিণ) এসআই রবিউল ইসলাম জানান, ‘প্রথমে ভাটিয়ারি থেকে হানিফ ও ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও তিন সহযোগিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা সকলেই পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা মামলার আসামি।’
উল্লেখ্য, গত ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় ৯ নম্বর পুলের গোড়ায় হানিফের বাসা থেকে চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রোকনুজ্জামান মাদক কারবারি হানিফ ও শরীফকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
আটকের কিছুক্ষণ পরই কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে হানিফ ও শরীফকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগিরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে হানিফ বাহিনীর সংঘর্ষ হলে হানিফের বোন নাজমা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন। এমনকি চান্দগাঁও থানার ওসিসহ সিএমপি থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ সেখানে গেলেও হানিফকে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারেনি পুলিশ।
র্যাবের পর পুলিশও হেফাজতে রাখতে পারেনি মোহরার মাদক কারবারি হানিফকে
পুলিশের ওপর হামলা, ফাঁড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় একটি এবং ইয়াবাসহ আটকের ঘটনায় আরেকটিসহ মোট দুটি মামলা করে পুলিশ। হামলা মামলায় এজাহার নামীয় ১৪জন ও অজ্ঞাত ২১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্যদিকে মাদক মামলায় হানিফ ও শরীফকে আসামি করা হয়েছে। আটক আটজনকে ইতোমধ্যে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ২০২০ সালের ১২ অক্টোবরের দিকে মৌলভী বাজারের ৯ নম্বর পোল এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ পেয়ে হানিফকে আটক করে র্যাব সদস্যরা। এ খবর পেয়ে সড়ক অবরোধ করে সিনেমাটিক স্টাইলে তাকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নেন হিজড়াদের একটি দল। হানিফের বাবা লোকমান, ভাই ইয়াছিন ও বোন নাজমা সবাই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মৌলভী বাজারের পোল বস্তিসহ মোহরা এলাকা মাদককারবার নিয়ন্ত্রণ করতে ইয়াছিন আরাফাতকে সুকৌশলে হিজড়া বানিয়েছে তার পরিবার। প্রতিদিন হিজড়া রুপ নিয়ে এলাকায় জোর করে টাকা তোলে ইয়াছিন। কেউ কিছু বললে সবার সামনে উলঙ্গ হয়ে মারধর করে। মানুষ বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দেয়।
খখ/মো মি


