খাসখবর বাণিজ্য ডেস্ক: দেশে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামের অস্থিরতা নিরসনে সরকারকে যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন।
স্বল্পআয়ের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে এতদিন বড় ভরসার জায়গা ছিল ব্রয়লার মুরগি ও ডিম। কিন্তু এখন তাও যেন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত কিছুদিন ধরেই এই খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এক বছর আগেও প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। যা এখন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে ডিমের দামও। এ অবস্থায় সারা দেশে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামের অস্থিরতা নিরসনে এ দাবি জানান পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
গতকাল রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হতেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পোলট্রি ফিডসহ অন্যান্য সব খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে উৎপাদনের খরচ অনেক বেড়েছে। এতে ক্ষুদ্র খামারিরা টিকতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের মহাসচিব খোন্দকার মো. মহসিন বলেন, গতকাল গাজীপুরে একটি ডিমের পাইকারি মূল্য ছিল ৯ দশমিক ৪৫ টাকা, অথচ একটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১১ দশমিক ৭১ টাকা। প্রতিটি ডিম বিক্রয়ে ক্ষতি হচ্ছে ২ দশমিক ২৬ টাকা। এভাবে পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন খামারিরা। তিনি বলেন, ২০২০ সালে প্রতি কেজি ভুট্টার দাম ছিল ১৭ দশমিক ৩০ টাকা। যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকার ওপরে। অথচ পোলট্রি খাদ্যে ভুট্টার ব্যবহার ৫৭/৫৮ ভাগ। এছাড়া পোলট্রি খাদ্যে সয়াবিন খৈলের ব্যবহার শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ। ২০২০ সালে প্রতি কেজি সয়াবিন খৈলের দাম ছিল ৩৫/৩৬ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি সয়াবিন খৈলের দাম ছিল ৮৪ টাকারও বেশি।
খোন্দকার মো. মহসিন বলেন, পোলট্রি খাদ্যে ব্যবহৃত হয় এমন সবকয়টি খাদ্য উপাদানের মূল্যবৃদ্ধিসহ দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে কোনো না কোনোটি। বর্তমানে খাদ্য উপাদান সংকট চরমে। প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান আমদানির জন্য চাহিদামতো এলসি খুলতে না পারলে একে একে বন্ধ হবে পোলট্রি খামারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, সময়ে সময়ে বাচ্চা বিক্রি করতে না পেরে বাচ্চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এক দিনের লাখ লাখ মুরগির বাচ্চা মেরে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। পোলট্রির ডিম ও মাংস উৎপাদনে ৬৮ থেকে ৭০ ভাগ খরচ হয় খাদ্যে। আর এ খাদ্যের বেশির ভাগ উপাদান বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানির জন্য ৮৪ টাকার ডলার ১১০ টাকা দিয়েও সহজলভ্য হচ্ছে না। এছাড়া জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি, ডিজেল, বিদ্যুত্, পরিবহনসহ সবকিছুর দাম বাড়ার ফলে বেড়েছে উত্পাদনের খরচ।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ হাবিবুল হক বলেন, সারা দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৭৯টি খামারের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে ৯৫ হাজার ৫২৩টি খামার। বর্তমানে উৎপাদন (মুরগির মাংস) হচ্ছে ৪ হাজার ২১৯ টন। যা উৎপাদন সক্ষমতা থেকে ২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। এছাড়া ডিম উত্পাদনের সক্ষমতা দৈনিক যেখানে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার ১৮৩টি, সেখানে দৈনিক উৎপাদিত হচ্ছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৩ হাজার ৪১৮টি ডিম। যা উৎপাদন সক্ষমতা থেকে ২৫ ভাগ কম। তিনি বলেন, পোলট্রি সেক্টরে এমন নাজুক অবস্থা কখনো আসেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে শাহ হাবিবুল হক বলেন, ডিম ও মুরগির মাংসের দাম নিয়ে উৎপাদক ও ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তুষ্টি কাজ করছে। এই অস্থিরতা নিরসনে তিনি ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম নির্ধারণ করে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান।
সংগঠনের মহাসচিব খোন্দকার মো. মহসিন বলেন, এর আগে ২০১০ সালে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম নির্ধারণ নিয়ে সরকার একটি কমিটি করেছিল। কিন্তু গত এক দশকে এই কমিটি তিনটি সভা ছাড়া আর কিছুই করেনি। আমরা এ ব্যাপারে সম্প্রতি একটি চিঠি দিয়েছি। তিনি বলেন, দাম নির্ধারণে সরকারিভাবে গঠিত এ কমিটির সঙ্গে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জন শিক্ষক ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে যুক্ত করে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিলে বাজার থেকে এই অস্থিরতা দূর হবে বলে আশা করছি।
খখ/মো মি


