খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর গুলিস্তানে বহুতল ভবনে বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১৮
জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ২ জন নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক আহত হয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক ১৮ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতরা হলেন- ১. মো. সুমন (২১), ১ নং সুরি টোলা, বংশাল ঢাকা, গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানা।
২. মো. ইসহাক মৃধা (৩৫), কাজির হাট, বরিশাল। ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা করতেন।
৩. মো. মুনসুর হোসেন (৪০), পশ্চিমপাড়া যাত্রাবাড়ী।
৪. মো. ইসমাইল (৪২), ৯৭ লুৎফর রহমান লেন, আলু বাজার।
৫. মো. আল আমিন (২৩), পশ্চিম লালপুর, মতলব, চাঁদপুর। আলামিন বিবিএ শিক্ষার্থী বলে তার ভাই হাবিবুর রহমান জানান।
৬. মো. রাহাত হোসেন (১৮), মাস্টার বাড়ি, দক্ষিণ চুনকুটিয়া, কেরানীগঞ্জ।
৭. মমিনুল ইসলাম (৩৮), ১১৫/৭/৫ ইসলামবাগ, চকবাজার।
৮. নদী বেগম (৩৬), ১১৫/৭/৫ ইসলামবাগ, চকবাজার থানা।
৯. মো. মাঈন উদ্দিন (৫০), গ্রাম-সৈয়দপুর, মুন্সিগঞ্জ সদর।
১০. নাজমুল হোসেন (২৫), ৪৭ নং কে পি ঘোষ স্ট্রিট, বংশাল।
১১. ওবায়দুল হাসান বাবুল (৫৫), চর বেউথা গ্রাম, মানিকগঞ্জ সদর।
১২. আবু জাফর সিদ্দিক (৩৪), মুন্সিগঞ্জ, গজারিয়া, বালুয়া কান্দি।
১৩. আকুতি বেগম (৭০), ১৮/১ আগামাসি লেন, বংশাল।
১৪. মো. ইদ্রিস মির (৬০), মীর হাজারীবাগ যাত্রাবাড়ী,
১৫. নুরুল ইসলাম ভূইয়া (৫৫), মাতুয়াইল, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা।
১৬. মো. হৃদয় (২০), সিদ্দিক বাজার জাবেদ গলি, বংশাল।
১৭. মো. সম্রাট (২২)।
১৮ মোহাম্মদ সিয়াম (২০)।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড কাউন্টারের পাশে ৫ তলা একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করেছে। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।’
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ৫ তলা ভবনের নিচতলায় স্যানিটারির দোকান এবং বাকি ৪টি ফ্লোর ব্রাক ব্যাংকের অফিস।
ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক, র্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন,
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জরুরি প্রয়োজনে রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। রক্তদানে আগ্রহীদের ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে লাশ বুঝে নেওয়া জন্য এ পর্যন্ত ১৫টি আবেদন জমা হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের এনডিসি মো. রহমতউল্লাহ মঙ্গলবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে লাশ নেওয়ার জন্য ১৫টি আবেদন পেয়েছি। এক এক করে মরদেহগুলো আমরা স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেবো। কিছুক্ষণ আগে একটি মরদেহ আমরা বুঝিয়ে দিয়েছি। কাজ শেষ হলে বাকিগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তিনি জানান, সুরতহাল শেষে লাশগুলো বুঝিয়ে দিতে কাজ করছেন পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট।
খখ/মো মি


