খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনা ভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। এই সময় একটি পূর্ণাঙ্গ সিনেমার জন্য আমরা যে অনুদান দিচ্ছি সেটা কিন্তু যথেষ্ট না। সিনেমা নির্মাণে সরকারি অনুদান বাড়ানো হবে। বর্তমানে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার জন্য ২৫ লাখ ও স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার জন্য ২০ লাখ টাকা অনুদান দেয় সরকার। আগামী বাজেটে আমি নিজে এটা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবো।’
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে ২৭ ক্যাটাগরিতে এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মন্ত্রী হিসেবে ১৯৫৭ সালের ২৩ এপ্রিল সংসদে আমাদের এই বাংলাদেশে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন বিল, এই আইনটি পাশ করেন বঙ্গবন্ধু। তার উদ্যোগে আইনটি পাশ হয়। বিশেষ করে পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র সংস্থা, বিশেষ করে এফডিসির কাজ শুরু হয়। সেখানে সিনেমা নিমার্ণও শুরু হয়েছিল।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের সিনেমা হলগুলো এনালগ, অত্যন্ত পুরানো। আমাদের যারা মালিক তাদের সঙ্গে বহু বার বসেছি, তাদেরকে বহু বার অনুরোধ করেছি, আপনারা এগুলোকে আধুনিক করে ফেলেন। এটা করার দরকার ছিল। এবার আমরা ১ হাজার কোটি টাকার আলাদা ফান্ড রেখে দিয়েছি। সেখান থেকে যে কেউ প্রাথমিকভাবে অল্প সুদে ১০ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে। জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেন সিনেমা হল হয়, বিশেষ করে নতুনভাবে সিনেপ্লেক্স গড়ে তোলেন। একসময় আধুনিক প্রযুক্তির কারণে মানুষ সিনেমা হল বিমুখ হয়ে গিয়েছিল। এখন কিন্তু আবার ফিরে আসছে। এখন কিন্তু মানুষ সিনেমা হলমুখী হচ্ছে। সেই রকম বই পেলে মানুষ যায়, তার প্রমাণও আমরা পেয়েছি। আমাদের কয়েকটি ভালো সিনেমা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের শিল্পীরা যখন কাজ করেন তখন খুবই নাম ডাক থাকে, কিন্তু এক সময় খুবই বাজে অবস্থায় পড়ে যায়। এটা আরো বেশি নজরে এসেছে এই করোনাকালীন সময়ে। অনেকেই কোনো কাজই পেতেন না। তবে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন-২০২১ পাশ করে দিয়েছি। চলচ্চিত্রের সাথে যারা সম্পৃক্ত, আমাদের যন্ত্রশিল্পী, কলাকুশলী, মঞ্চসজ্জা থেকে শুরু করে যারা আছেন তাদের সকলকে নিয়েই এই ট্রাস্টটা করা। এটার একটা সীল মানিও দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক বিত্তশালী আছে, তারাও এখানে অনুদান দিতে পারে। শিল্পীরাও যে যা অর্জন করেন কিছুটা দিয়ে রাখলে পরে আগামী দিনে যারা কাজ করবে তাদের জন্যও কাজ করবে। আপনাদের জন্যও ভালো হবে। ট্রাস্টে যারা অনুদান দিবে সেই তালিকাটা যেন থাকে, তাহলে দেখতে পারবে কে কতটুকু সহযোগিতা করল। আমার পক্ষ থেকে আমি করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি সবার মাঝে আলাদা একটা মেধা ও চিন্তাশক্তি আছে। একটা আর্টিস্টিক ও শৈল্পিক মেধা আছে। তাদের মাধ্যমে জীবনধর্মী সেসব সিনেমা তৈরি হয়, সেগুলো মানুষকে আকর্ষিত করে। একটা সিনেমা একজন মানুষে জীবনকে পাল্টে দিতে পারে, একটা সমাজকে পাল্টে দিতে পারে। এ ধরণের সিনেমা তৈরিতে মনোযোগ দিতে হবে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চলচ্চিত্রজগতের সবাই অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, এ জন্য সবাইকে সাধুবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। এটা আমাদের স্বাধীনতার মাস। এই দেশের অভ্যুত্থানের সঙ্গে মার্চ অত্যন্ত গভীরভাবে মিশে আছে। ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, ৭ মার্চ তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস; এই মাসে আপনাদের সামনে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। বঙ্গবন্ধু শুধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে যাননি, আজকে যে সিনেমা শিল্প গড়ে উঠেছে, এর সূচনা করেছিলেন তিনি।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ডা. হাছান মাহমুদের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন।
খখ/মো মি


