খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর ও খুলশী থানায় নিখোঁজ হওয়া দুই কন্যা শিশু মাইশা ও জান্নাত আক্তারকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২ এপ্রিল) রাতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালিশহরের সিএন্ডবি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ টিপুর হেফাজত থেকে মাইশাকে ও নগরীর মাস্টার লেইন এলাকার বাসিন্দা রেলওয়ে কর্মচারী রেহানা আক্তারের বাসা থেকে জান্নাতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
উদ্ধার দুই শিশু হলো হালিশহরের রামপুরা এলাকার মো. আলমগীরের কন্যা জান্নাতুল ফেরদৌস মাইশা এবং খুলশীর সেগুন বাগান এলাকার বেলাল হোসেনের কন্যা জান্নাত আক্তার। তারা দুজনই ৯ বছর বয়সী।
পুলিশ জানায়, মাইশা ও জান্নাত আক্তার নামে দুই কন্যাশিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় ডায়রি করা হলে নিখোঁজ উদ্ধারে ৬ সদস্যের একটি দল গঠন করে সিএমপি। উদ্ধার অভিযান পরিচালনা দল শিশু দুজনের স্বজন ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ, ঘটনাস্থলের আশেপাশে তল্লাশি, নগরীর বিভিন্ন থানায় মাইকিং ও বাস, রেল স্টেশন, শপিংমলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টারিং করে।
হালিশহর থানার উদ্ধারকারি দলের সদস্য এস আই সুফল কান্তি দে জানান, হালিশহর থানার রামপুরা এলাকার বাসিন্দা পারভীন আক্তার গত ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মাইশাকে (৯) পড়াশোনার জন্য বকাঝকা দেয়। মায়ের বকুনি খেয়ে শিশু মাইশা কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে তার মা পারভীন আক্তার ২৯ মার্চ হালিশহর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করতে ছয় সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়। ওই টিমের সদস্য হিসাবে ওসি স্যারের নেতৃত্বে আমরা এলাকার বিভিন্ন সূত্র ধরে বিভিন্ন লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। একই সঙ্গে সংগ্রহ করা হয় সম্ভাব্য বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ।
এছাড়াও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পোস্টারিং এবং মাইকিং করা হয়। টানা অভিযানের একপর্যায়ে রোববার দিবাগত রাতে হালিশহর থানার সিএন্ডবি বড়পুকুর পাড় থেকে মাইশাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
হালিশহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জহির উদ্দিন বলেন, শিশু মাইশাকে উদ্ধারে আমরা টানা অভিযান পরিচালনা করি। ঘটনার পর থেকে টানা পাঁচ রাত ঘুমাইনি। উদ্ধারের পর জানা গেল ঘটনার দিন শিশুটি মায়ের সঙ্গে রাগ করে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে একজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে পেছন পেছন হাঁটতে থাকে। পরে ওই ব্যক্তি তাকে বাড়িতে আশ্রয় দেয়। পাশাপাশি শিশুর ঠিকানা খুঁজে পেতে চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আমরা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে শিশু মাইশাকে উদ্ধার করি।
এদিকে খুলশী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাত ৯টার দিকে খুলশী থানার সেগুন বাগান এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় জান্নাত আক্তার নামে এক শিশু। এ ঘটনায় খুলশী থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি হয়। পরবর্তীতে শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশ। টানা অভিযান পরিচালনা করা হয় নগরীর বিভিন্ন স্থানে। একপর্যায়ে ওই থানার মাস্টার লেন অগ্রদূত ক্লাবের রেলওয়ের স্টাফ রেহেনা আক্তারের বাসা থেকে রোববার দিবাগত রাতে জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, শিশু জান্নাত তার মা মারা যাওয়ার পর থেকে ভাইয়ের বাসায় থাকতেন। সেখান থেকে জান্নাতের খালাতো বোন সাজু আক্তার লালন-পালনের জন্য ভুক্তভোগীকে রেলওয়ের স্টাফ রেহেনার বাসায় দিয়ে দেন। তবে তিনি বিষয়টি কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি। পরে পুলিশের অভিযানে শিশু জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত ২১ মার্চ নগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকার আবিদা সুলতানা আয়নী (১০) নামে এক শিশু নিখোঁজ হয়। বিড়াল ছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মো. রুবেল (৩৫) নামে বাসার পাশের এক সবজি বিক্রেতা তাকে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ওইদিন একটি বাসায় নিয়ে ধর্ষণের পর গলাটিপে হত্যা করে রুবেল। পরে বস্তা ভরে শিশুর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায়। পরে ২৯ মার্চ ভোর রাতে পিবিআইয়ের একটি টিম আয়নীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় ঘটনাটি চট্টগ্রামজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
খখ/মো মি


