খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: আগামী ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
এ লক্ষ্যে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকার গঠন ও রাষ্ট্রাচার শাখা জানায়, ২৪ এপ্রিল বেলা ১১টায় বঙ্গভবনে এ শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ পূর্তি হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। শপথ নিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নব-নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিন।
তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হওয়ায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২৪ এপ্রিল শপথ নেবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে পরের পাঁচ বছর তার পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল কার্যভার গ্রহণ করেন। সে মোতাবেক তার দায়িত্বের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল।
নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানান, আগামী ২৪ এপ্রিল সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহাবুদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আবদুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি হবেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ তা সমর্থন করেন।
সাহাবুদ্দীন ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাবনা জেলা ছাত্রলীগের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯৭১ সালে তিনি পাবনায় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হন এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭৪ সালে সাহাবুদ্দীন পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাহাবুদ্দীন কারারুদ্ধ হন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
১৯৮২ সালে তিনি বিসিএস (বিচার) বিভাগে যোগ দেন এবং ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
এছাড়া, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের হত্যা, ধর্ষণ, চুরি এবং অন্যান্য অপরাধের তদন্তকারী বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন সাহাবুদ্দীন।
বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২৫ বছর পর তিনি ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গত জাতীয় কাউন্সিলে তিনি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে এলএলবি এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী অধ্যাপক ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
খখ/মো মি


