চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে অপহৃত আড়াই বছর বয়সী শিশু উদ্ধার, নারীসহ শিশুচোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

thai foods

খাসখবর প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহনগরীর চান্দগাঁও থেকে আড়াই বছর বয়সী চুরি যাওয়া শিশু মাহিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। চুরির ঘটনায় এক নারীসহ শিশুচোর চক্রের চার জনকে করা হয়েছে গ্রেফতার।

thai foods

গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে চান্দগাঁও থানার মধ্যম মোহরা এলাকা থেকে আড়াই বছর বয়সী শিশুটি নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার মা পারুল বেগম সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় রীমা আক্তার (৩০) নামের এক
নিঃসন্তান নারীর কাছে বিক্রি করেছিল শিশুচোর চক্রটি।

শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ছিপাতলী এলাকায় রীমা আক্তার (৩০) নামের নিঃসন্তান এই নারীর হেফাজত থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে গ্রেফতার করে তার দেয়া তথ্য মতে চান্দগাঁও থানা পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে শিশুচুরির সঙ্গে জড়িত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার চার জন হলো-বায়েজিদ থানার অক্সিজেন বেপারীপাড়ার আব্দুল মালেকের ছেলে মো. নুর ইসলাম ওরফে মুরাদ (২৪), একই থানার বালুচরা এলাকার আবুদল মালেকের ছেলে মো. জুয়েল (১৯), হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুর এলাকার মৃত আবদুল বারেকের ছেলে মো. রাসেল (৩৭) ও একই উপজেলার ছিপাতলী এলাকার নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী রিমা আক্তার (৩০)।

এ ঘটনার বিষয়ে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.খাইরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে মধ্যম মোহরার এ এল খান উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে বাসার অদূরে শিশুটি খেলছিল। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক যুবক শিশুটিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এর সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত করে হাটহাজারীর ছিপাতলীতে রিমা আক্তারের বাসায় শিশুটির সন্ধান পায়।
পরে রীমা আক্তারের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। তবে শিশুটিকে চুরির মূল হোতা মো. হাশেম পলাতক আছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, ‘হাশেমসহ চার জন মিলে চিপস খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায়। নিঃসন্তান রীমা আক্তারের সঙ্গে আগে থেকেই তাদের দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি শিশু পাইয়ে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। চুরি করা শিশুটিকে তাকে হস্তান্তরের পর রীমা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করেন। সেই টাকায় মুরাদ একটি মোটরসাইকেল কেনেন।’

সিএমপি’র পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, শিশু চুরির মূল হোতা পলাতক হাশেম এবং গ্রেফতার তিন জন সংঘবদ্ধ শিশুচোর চক্রের সদস্য। তারা শিশু চুরি করে নিঃসন্তান দম্পতিদের পাশাপাশি পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে। হাশেম এই চক্রের মূল হোতা। গ্রেফতার মুরাদের হেফাজত থেকে শিশু চুরির টাকায় কেনা মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জুয়েলের হেফাজত থেকে শিশুটিকে তুলে নেওয়ার সময় ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। জুয়েলের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে বিভিন্ন থানায় আরও তিনটি মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া আড়াই বছর বয়সী শিশুটি মা পারুল বেগম বাদী হয়ে শিশু চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন।

খখ/মো মি

আগে‘ফিল্মফেয়ার ২০২৩’ অ্যাওয়ার্ড জিতলেন যারা!
পরে“নিজের জন্য নয়, দেশ ও জনগণের জন্য এই সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী”-ওবায়দুল কাদের