“অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে উৎসাহিত করতে নতুন ভিসানীতি করা হয়েছে”-পিটার হাস

thai foods

খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, নতুন ভিসানীতি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে উৎসাহিত করতে এ নীতি করা হয়েছে।

thai foods

মঙ্গলবার (৩০ মে )বিকেলে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে ‘বন্ধুত্বের বীজ: যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের ৫০ বছর’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনের পর তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

পিটার হাস বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মার্কিন ভিসানীতি সেই প্রতিশ্রুতিকেই সমর্থন করে। এটা বাংলাদেশের জনগণের জন্যই।’

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা শাম্মী আহমেদ প্রমুখ।

গত ২৪ মে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা দেয়। ঘোষণা অনুযায়ী, নির্বাচনে কারচুপি, ভীতি প্রদর্শন এবং নাগরিক ও গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতায় যারা বাধা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

নতুন মার্কিন ভিসা নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যা চায়, আমরাও তাই চাই। আমি কোনো দ্বিমত দেখছি না। যুক্তরাষ্ট্র চ্যালেঞ্জের চেয়ে ইতিবাচক বিষয়গুলো দেখছে। বাণিজ্য, নিরাপত্তা সম্পর্ক, জনগণের মধ্যে বন্ধন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে ভালো সংলাপের বিষয়ে আমাদের একটি শক্তিশালী অংশীদারত্ব রয়েছে।’

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে পিটার হাস সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক আসতে পারবেন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ রয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থেকেই মার্কিন ভিসা নীতি দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের পথে চ্যালেঞ্জ নিয়ে জানতে চাইলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জের চেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোতে আলোকপাত করতে চাই। আজকের প্রদর্শনীর দিকে যদি তাকান তাহলে দেখবেন, আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্কের দারুণ এক দৃষ্টান্ত এই প্রদর্শনী।’

অনুষ্ঠানে পিটার হাস বলেন, এ প্রদর্শনীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বকারী পূর্ববর্তী অন্যান্য বাংলাদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালীন বিভিন্ন ঐতিহাসিক ছবিও প্রদর্শিত হয়েছে। এই ছবিগুলোতে সুশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি সম্মান ও কার্যকরী গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক এবং দুই দেশের মানুষের মেলবন্ধনের স্মারক, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব এত নিবিড় ও সম্প্রসারিত হয়েছে যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে খোলাখুলিভাবে বিতর্ক করার সুযোগ করে দিয়েছে।’

খখ/মো মি

আগে“আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি সংঘাতে নয়”-প্রধানমন্ত্রী
পরে“শেখ হাসিনার সরকার `স্মার্ট বাংলাদেশ’ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে”-তথ্যমন্ত্রী