না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাংবাদিক আজাদ তালুকদার

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে অকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য, একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার।

thai foods

বুধবার (২ আগস্ট) ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানী ঢাকার বিআরবি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৮ বছর।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যানসারসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তার মরদেহ চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২ আগস্ট) বাদ জোহর নগরের ওয়াসার মোড়স্থ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠ প্রাঙ্গণে তাঁর ১ম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর দুপুর আড়াইটায় জামালখানস্থ প্রেসক্লাবের সামনে ২য় নামাজে জানাজা এবং বাদে আসর তার নিজ বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

লেখক, সাংবাদিক ও সংগঠক আজাদ তালুকদারের অকাল মৃত্যুতে সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে সাংবাদিক আজাদ তালুকদার মরণব্যাধি ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে আসছিলেন। অসুস্থ আজাদ তালুকদার ভারতের মুম্বাইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হসপিটালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সাংবাদিকতায় দীর্ঘ ৩ দশক ধরে জড়িত আজাদ তালুকদার একুশে পত্রিকা সম্পাদনা ছাড়াও একাত্তর টিভি, বৈশাখী টিভি, একুশে টিভি, সাপ্তাহিক ২০০০, আন্তর্জাতিক ফিচার সংস্থা-সান ফিচার সার্ভিস, এফএম রেডিওসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

সাংবাদিক আজাদ তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। মন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং একইসঙ্গে তার পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মন্ত্রী হাছান মাহমুদ শোকবার্তায় বলেন, খুব কাছে থেকে দেখা আজাদ তালুকদার ছিলেন এক নির্ভীক নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক। তার অকাল মৃত্যু অত্যন্ত বেদনার। চট্টগ্রামের সাংবাদিকতায় তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তথ্যমন্ত্রী ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধরত আজাদ তালুকদারের চিকিৎসার নিয়মিত খোঁজখবর রাখতেন, কয়েকদিন আগেও হাসপাতালে তাকে দেখতে গেছেন।

একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। সেইসঙ্গে তিনি মহান আল্লাহতালার দরবারে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, এই চট্টগ্রামে মেধাবী সাংবাদিকদের একজন আজাদ তালুকদার। সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতা রক্ষায় যে কয়জন সাংবাদিক স্রোতের বিপরীতে থেকে পথ চলেছেন আজাদ তালুকদার ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। গড্ডালিকা প্রবাহে কখনো গা ভাসিয়ে দেননি তিনি। সত্যের পথ অনেকটা কঠিন, সে কঠিন কণ্টকময় পথে নিজেকে অবিসংবাদিত রেখে একুশে পত্রিকাকে পরম যত্নে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন আজাদ তালুকদার।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, আজাদ তালুকদারের সঙ্গে আমার সামাজিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যক্তি সম্পর্কও ছিল। তিনি একজন সদালাপী, মিশুক ও বিনয়ী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আজাদ তালুকদারের মৃত্যুতে জাতি একজন সাহসী, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিককে হারালো। তিনি মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

এছাড়াও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি তপন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম এক বিবৃতিতে আজাদ তালুকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। সাংবাদিক নেতারা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকাহত স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

খখ/মো মি

আগেতারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের মামলার রায় আজ
পরেবিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৯ বছরের কারাদণ্ড, তার স্ত্রী ডা.জোবায়দার ৩ বছর