চট্টগ্রামের চান্দগাঁওয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা, হত্যাকারি যুবক গ্রেপ্তার

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁওয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে সাত বছর বয়সী তানহা আক্তার মারিয়া নামের এক শিশুকে।

thai foods

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হত্যাকারি যুবক রাকিবুল ইসলাম মুন্নাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানায়, মৃত্যুর আগে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টায় নগরীর চান্দগাঁও থানার মৌলভী পুকুর পাড় এলাকা
চান্দের বাড়ির দিদার কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতার রাকিবুল ইসলাম মুন্না (২২) কক্সবাজার জেলায় কক্সবাজার সদর থানার কক্সশাহীর টিকা পল্লীর মৃত ইউসুফের ছেলে। সে ওই এলাকার বাসিন্দা।

শিশু তানহা আক্তার মারিয়া, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার রামদয়াল এলাকার মো. বাকের হোসেনের মেয়ে। সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। সে মা-বাবার সঙ্গে মৌলভী পুকুরপাড় এলাকার চান্দের বাড়ির দিদার কলোনিতে ভাড়া ঘরে থাকত।

চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খাইরুল ইসলাম জানান, সাত বছর বয়সী শিশুটির মা একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাবা রিকশাভ্যান চালক। বাবা-মা কাজে যাবার পর শিশুটি বাসায় একা ছিল। প্রতিবেশি এক নারী ভেতর থেকে দরজা বন্ধ দেখে জানালা দিয়ে উঁকি দেন। তখন দরজা খুলে এক যুবককে দ্রুত পালাতে দেখেন। ওই নারী বাসায় ঢুকে বিছানার ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশুটির নিস্তেজ শরীর দেখে চিৎকার করে প্রতিবেশিদের জড়ো করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত মুন্না পালিয়ে গিয়ে একটি পুকুরে লুকিয়ে ছিল। এলাকায় তল্লাশির পর পুকুরে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মুন্না নামে ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। গলার দুই পাশে কালো দাগ আছে। এছাড়া আলামত দেখে আমরা প্রায় নিশ্চিত যে, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয়রা জানায়, রাকিবুল ইসলাম মুন্না ধর্ষণের পরে তানহাকে হত্যা করে। মুন্না শিশুটিকে হত্যা করে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল৷ এর আগে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ধাক্কা দেন। একপর্যায়ে দরজা খুলে যায়। এ সময় ভেতর থেকে মুন্না তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তার পিছু নেন স্থানীয় লোকজন। তারা বাসায় ঢুকে দেখেন ওড়না দিয়ে হাত-পা বাঁধা মারিয়ার নিথর দেহ পড়ে আছে।

নিহত তানহা বাবা বাকের হোসেন বলেন, মেয়েকে বাসায় রেখে পৌনে ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। এর আগে আমার স্ত্রী সকাল সাড়ে ৭টায় কর্মস্থলে চলে যায়। বাসা থেকে বের হয়ে গ্যারেজে যাই। গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে বের হয়ে মৌলভী পুকুর পাড় এলাকায় ভাড়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। সকাল নয়টার দিকে প্রতিবেশী এক নারী এসে খবর দেন বাসায় তার মেয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, বাসায় বিছানায় শোয়ানো ছিল মেয়ের মরদেহ। গলায়, হাত ও পায়ে বেঁধে রাখার দাগ রয়েছে। শরীরের গেঞ্জি ছাড়া কোনো কাপড় ছিল না। কানে ও গলায় থাকা স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে।

খখ/মো মি

আগেচন্দনাইশে সাজাপ্রাপ্ত ২ জন আসামী গ্রেফতার
পরে“যত অপপ্রচারই হোক, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে”-ড. হাছান মাহমুদ