খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: আপন ভাগিনাও যে আপন মামার কাছে নিরাপদ নয় তা নিন্মোক্ত এই ঘটনায় প্রমাণিত। ১ লাখ টাকার লোভে পড়ে আপন ভাগিনাকে বিক্রি করে দিয়েছে মামা-মামী। এ ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটা এলাকায়।
পুলিশ জানায়, গত ২৮ অক্টোবর দুপুরে কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা ব্রিকফিল্ড রোডে ভুট্টু সওদাগরের চায়ের দোকানের সামনে রাস্তার উপর থেকে শিশু ইসমাইলকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায় তার আপন মামা মোঃ মুজিবুর রহমান প্রকাশ মজিদ। পরে কালাম নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে নরসিংদীর এক নিঃসন্তান দম্পতি জনৈক মোঃ ফারুকের কাছে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয় ভাগিনা ইসমাঈলকে।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) শিশু ইসমাইলের মা নুপুর আক্তার প্রকাশ বৃষ্টি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানার মামলা দায়ের করলে স্ত্রী আরজু বেগমসহ মামা মজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানতে পারে পুলিশ।
ওইদিন দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কর্ণফুলী থানাধীন চর পাথরঘাটা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে অপহৃত শিশু ইসমাইলকে নরসিংদী সদর উপজেলার জেলার বগারগত এলাকা হতে জীবিত উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় কালাম নামে ওই ব্যক্তিকেও।
গ্রেপ্তার মোঃ মুজিবুর রহমান প্রকাশ মজিদ
নোয়াখালীর চরজব্বার নুরুল আমিন মিস্ত্রি বাড়ির মৃত মো. মোখলেছুর রহমানের ছেলে। আবুল কালাম নরসিংদী সদরের সিরাজ হাজীর বাড়ির মৃত আব্দুল বাতেনের ছেলে। আর আরজু বেগম ভোলা জেলার মনপুরার আলী খির খাগোর বাড়ির মো. নুর আলমের মেয়ে। তবে তারা সবাই বর্তমানে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে থাকেন। এছাড়া গ্রেপ্তার মজিদ ও আরজু বেগম সম্পর্কে স্বামী স্ত্রী এবং তারা অপহৃত শিশুটির আপন মামা-মামী।
কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, ‘শিশুটিকে আপন মামা-মামী অপহরণ করে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে নরসিংদী জেলার নিঃসন্তান এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন। গ্রেপ্তার মজিদকে আদালতে উপস্থিত করা হলে ঘটনার দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত অপহৃত শিশুকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।’
খখ/মো মি


