খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক:‘ফ্রি ফায়ার গেম’ খেলা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারিতে রূপ নিলে একজনের ঘুষিতে অন্যজনের (আবদুল্লাহ) মৃত্যু হয়।
সন্তানকে খুনের দায় থেকে বাঁচাতে লাশ গুমের চেষ্টা করেন হাফিজা বেগম (৩৬)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; মা ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।
জানা গেছে, নগরীর ইপিজেড থানার বন্দরটিলার একটি কুরআন একাডেমিতে পড়তে গিয়ে মো. আবদুল্লাহ ও মো. হাসানের পরিচয় হয়। আবদুল্লাহর বাবা-মা দুজনই পোশাক শ্রমিক; স্কুলে পড়াতে গ্রামের বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠিতে পাঠিয়ে দেন ১৩ বছরের শিশু মো. আবদুল্লাহকে। বার্ষিক পরীক্ষার পর চট্টগ্রাম নগরে বাবা-মার কাছে বেড়াতে আসে শিশু মো. আবদুল্লাহ। নগরীতে এসে দেখা হলে মো. হাসানের বাসায় যায় শিশু আবদুল্লাহ। মোবাইলে ফ্রি ফায়ার গেম খেলতে গিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে আবদুল্লাহকে কিলঘুষিতে পিটিয়ে মেরে ফেলে মো. হাসান। খুনের পর লাশ গুমে সাহায্য করে খোদ মা।
শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিএমপির গোয়েন্দা (বন্দর ও পশ্চিম) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেন।
তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দুজনকে পাওয়া যায়। এরমধ্যে মূল আসামি মো. হাসান (১৫) ও অপরাধে সহায়তাকারী তার মা হাফিজা বেগম (৩৬)। বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ৬ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আব্দুল্লাহ ও হাসান তারা বন্ধু ছিল। তারা একই সাথে বন্দরটিলা হাবীবীয়া তাজবিদুল কুরআন একাডেমিতে পড়ালেখা করত।
তিনি আরও বলেন, পরে আব্দুল্লাহ গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে গ্রামের বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম নগরে পরিবারের কাছে বেড়াতে আসে। এরপর বন্ধু মো. হাসানের সাথে দেখা হয়। আব্দুল্লাকে বাসায় ডেকে নিয়ে যায় হাসান। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ১৩ তারিখ সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বন্দরটিলা আলী শাহ মাজার গলি হয়ে ফুটপাথ হয়ে বক্স আলী মুন্সী রোড অতিক্রম করে হামিদ আলী টেন্ডলের গলির দিকে যাওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হই। কিন্তু রাস্তার পাশে থাকা দোকানের কিছু সিসি ক্যামেরা বিকল থাকায় দুইজনের চূড়ান্ত গন্তব্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হাসানের মা হাফিজা বেগমকে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর হাসানকে আনোয়ারার পানির ট্যাঙ্কি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা এসব কথা স্বীকার করে।
খুনে অভিযুক্ত মো. হাসানের বয়সের ব্যপারে জানতে নগর গোয়েন্দা (বন্দর ও পশ্চিম) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেনকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, খুনে অভিযুক্ত হাসানের কাছে কোন প্রকার এনআইডি পাওয়া যায়নি। বয়সের বিষয়সহ মামলার আনুষাঙ্গিক তথ্য অধিকতর তদন্ত থেকে জানা যাবে।
খুনের ঘটনা ধামাচাপা দিতে
মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজানো হয়!
গত ১৩ তারিখ আব্দুল্লাহ হাসানের বাসায় যায়। তারা একসাথে মোবাইলে ফ্রি-ফায়ার খেলতে শুরু করে। পরে খেলার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর হাসানের কিল ঘুষির কারণে মারা যায় আবদুল্লাহ। আবদুল্লাহর পরিবারকে ব্যস্ত রাখতে মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজায় অভিযুক্ত হাসান। আবদুল্লাহর বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায় সে। এছাড়াও আবদুল্লাহর বাবা মাকে পুলিশের সহায়তা নিতে নিষেধ করে। এরপর সন্ধ্যায় হাসানের মা হাফিজা বেগম গার্মেন্টেসের চাকরি শেষ করে ঘরে ফিরলে মাসহ মিলে রাতের অন্ধকারে বস্তা দিয়ে প্যাচিয়ে দুই বিল্ডিংয়ের মাঝে ফেলে দেয় আবদুল্লার মৃতদেহ।
খখ/মো মি


