খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ) থেকে চুরি হওয়া ৫ দিন বয়সী শিশুকে ফেনী থেকে উদ্ধার করেছে পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়ার পর ওইদিন রাতেই শিশুটিকে ফেনীর পরশুরাম থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, লোহাগাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু মো. নোমান ও আসমা আক্তার দম্পতির সন্তান গত ৫ দিন ধরে চমেক হাসপাতালের এনআইসিইউ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শিশুর কাছে ছিল না কোনো অভিভাবক। দুপুর ২টার পর ওয়ার্ডে গিয়ে শিশু চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন তারা। তাৎক্ষণিক হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সকে জানানো হলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, যমজ ছেলে-মেয়ে জন্ম দিয়েছিলেন নাসিমা। জন্মের পরই ছেলে মারা যায়। নবজাতক মেয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। অসুস্থ সেই বাচ্চাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে নাসিমা আরেক মায়ের নবজাতক নিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচ দিন বয়সী ওই নবজাতককে উদ্ধারের পাশাপাশি নাসিমা ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে।
পাঁচলাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘গত শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যমজ ছেলে-মেয়ের জন্ম দেন নাসিমা। জন্মের পর থেকেই শিশু দুটির শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাদের চমেক হাসপাতালের নিওন্যাটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) রাখা হয়। সেখানেই এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। অন্যজনের অবস্থাও ভালো ছিল না। নাসিমা প্রথমবার সন্তান প্রসব করেছিলেন। বিষয়টি তার মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে তার মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে এনআইসিউতে নিজের অসুস্থ বাচ্চাকে রেখে ৩১ নম্বর বেডে থাকা আরেক নবজাতককে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নবজাতকটি উদ্ধার করতে ‘টিম পাঁচলাইশ’ অভিযান চালিয়ে পাঁচ দিন বয়সী ওই নবজাতককে উদ্ধারের পাশাপাশি নাসিমা ও তার মাকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার নার্গিসের কন্যা শিশুর অবস্থাও ভালো না।
পাঁচলাইশ থানার অপারেশন অফিসার এসআই জুবায়ের মৃধা বলেন, চুরি হওয়া নবজাতকটি উদ্ধার করতে হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়। এরপর চমেক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে তাদের ট্রেস করি। মোবাইল নম্বরের লোকেশন দেখায় ফেনীর পরশুরাম। পাঁচলাইশ থানার পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করেছে। বুধবার সকালে নবজাতক কন্যা শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খখ/মো মি


