খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানা পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে রপ্তানি পণ্য আত্মসাৎ চক্রের মূলহোতাসহ চক্রের ৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
এবিষয়ে সিএমপির বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের মজুমদার বলেন, কাভার্ডভ্যান থেকে রপ্তানিকৃত ৪১০০ পিস গার্মেন্টস পণ্য(প্যান্ট) আত্মসাৎ করে এ চক্রটি। এ ব্যাপারে বন্দর থানার মামলা দায়েরের পর ‘টিম বন্দর’ অভিযানে নামে। নগরীর ডবলমুরিং, আকবর শাহ, হালিশহর থানা এলাকা এবং ডিএমপির তুরাগ ও উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রপ্তানি পণ্য আত্মসাৎ চক্রের মূলহোতাসহ চক্রের ৫ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিএমপির বন্দর জোনের
সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এস আই মাসুদুর রহমান সঙ্গীয় অফিসারসহ রপ্তানিকৃত ৪১০০ পিস গার্মেন্টস পণ্য(প্যান্ট) আত্মসাতের মামলার কাভার্ডভ্যানের চালক কালু মিয়া (৩০) ও তদন্তেপ্রাপ্ত আসামী মোঃ নেজাম উদ্দিনকে আটক করা হয়।
তাদের দেয়া তথ্য মতে বিশ্বস্ত গুপ্তচর ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন শিশুপার্ক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মোঃ আবুল কাশেম পাইককে (৫৩) গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আবুল কাশেম জানায়, চলতি বছরের গত ১ জানুয়ারি রাতে মোঃ কালু মিয়া ড্রাইভারের চালানো কাভার্ডভ্যান হতে মোঃ মাসুম বিল্লাহের(৩২) সহায়তায় ৪১০০ পিস গার্মেন্টস পণ্য(প্যান্ট) অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে নামিয়ে রাখে।
আসামী মোঃ আবুল কাশেম পাইকের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবর শাহ থানাধীন কুটুম বাড়ী রেস্তোরার সামনে হতে আসামী মোঃ মাসুম বিল্লাহকে(৩২) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার
মাসুম বিল্লাহ জানায়, আত্মসাৎকৃত ৪১০০ পিস গার্মেন্টস পণ্য(প্যান্ট) সমূহ আসামী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের(৫০) কাছে দুই লক্ষ নব্বই হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। প্রাপ্ত টাকা থেকে কাভার্ডভ্যানের চালক মোঃ কালু মিয়া ড্রাইভারকে পয়ষট্টি হাজার টাকা দেয়া হয়। অবশিষ্ট টাকা মোঃ আবুল কাশেম পাইক (৫৩) ও মোঃ মাসুম বিল্লাহ(৩২) ভাগাভাগি করে নেয়।
পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্যমতে হালিশহর থানাধীন ঈদগাঁ কাঁচা রাস্তার মোড় হতে আসামী মোহাম্মদ জামাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, উল্লেখিত পণ্যসমূহ অধিক মুনাফার উদ্দেশ্যে আসামী মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের(৪২) কাছে চার লক্ষ টাকায় বিক্রি করে।
পরে তার দেয়া তথ্য মতে, ডিএমপি’র তুরাগ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামী মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, উল্লেখিত গার্মেন্টস পণ্যসমূহ সাত লক্ষ সত্তর হাজার টাকায় ওসাম বিডি’র স্বত্তাধিকারী আসামী মোঃ শাহজালালের (৩৯) কাছে বিক্রি করেন। আসামীদের সাথে নিয়ে ডিএমপি’র উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামী মোঃ শাহজালালকে (৩৯) গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শাহজালাল জানায়, উল্লেখিত ৪১০০ পিস গার্মেন্টস পণ্য (প্যান্ট) আসামী মোঃ মঞ্জুরুল ইসলামের কাছ থেকে কিনেছে বলে স্বীকার করে। উক্ত পণ্যসমূহ সেইফ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘সেইফ ফ্যাশন এন্ড ট্রেডিং’ এর সংযুক্ত আরব আমিরাত(দুবাই) এ জনৈক কামার আল হাসানের কাছে রপ্তানি করে। আসামীর অফিস হতে পণ্য বিক্রয় ও টাকা লেনদেন সংক্রান্তে বিভিন্ন ডকুমেন্ট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়েছে।
বন্দর থানার অপারেশন অফিসার এসআই মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, রপ্তানি পণ্য আত্মসাৎ চক্র গুলো কাভার্ডভ্যানের ড্রাইভার-হেলপারের সহায়তায় এ কাজ গুলো করে থাকে। এ চক্রটি এজাতীয় আরও একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। উল্লেখিত ৪১০০ পিস গার্মেন্টস পণ্য (প্যান্ট) গুলো দুবাই হতে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা অব্যাহত আছে। আসামীদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামীদের রিমান্ডে আনার আবেদন করা হবে।
খখ/মো মি


