মোহন মিন্টু, খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: ১৪ জন গুণী ব্যক্তিকে অমর একুশে স্মারক সম্মাননা পদক প্রদান করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে চলমান অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ বছর সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য একুশে স্মারক সম্মাননা পদক পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিকতার নির্ভীক কণ্ঠস্বর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও সিডিএ বোর্ড সদস্য এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে তিনি সাংবাদিকতা করে আসছেন এবং বিগত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে কলম চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে
আরও ১৩ জন গুণী ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ বছর একুশে পদকপ্রাপ্তরা হলেন—ভাষা আন্দোলনে: বদিউল আলম চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা ও গবেষণায়: অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে: অধ্যাপক ইমরান বিন ইউনুস, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনে: বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সমাজসেবায়: কামরুন মালেক, সংগীতে: নকীব খান, সাংবাদিকতায়: জাহেদুল করিম কচি, ক্রীড়ায়: তামিম ইকবাল খান।
এছাড়া সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন— কথাসাহিত্যে: অধ্যাপক আসহাব উদ্দিন চৌধুরী (মরণোত্তর), প্রবন্ধ ও গবেষণায়: অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, শিশুসাহিত্যে: মিজানুর রহমান শামীম, শিশু-চিকিৎসা সাহিত্যে: অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী, কবিতায়: জিললুর রহমান, অনুবাদে: ফারজানা রহমান শিমু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে যদি পাহাড় চলে যায়, তাহলে চট্টগ্রামকে কিভাবে বর্ণনা করবেন? আমাদের পাহাড়, সমুদ্র ও সিআরবি আছে। এগুলো যদি চলে যায়, তাহলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাবে।’ চট্টগ্রামে আর পাহাড় কাটা যাবে না। পাহাড় কাটলে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না। মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে৷ আইনের মুখোমুখি করতে হবে। তখন আর কেউ পাহাড় কাটবে না।
কেউ যদি পাহাড় কাটে তাহলে জেলা প্রশাসককে জানানোর অনুরোধ জানান উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। যদি জেলা প্রশাসক কাজ না করে তবে সিটি করপোরেশনের মেয়রকে জানাতে বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে
স্বাগত বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক, অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মরহুম বদিউল আলম চৌধুরীর মেয়ে নাজনীন কাউসার চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। পদক পাওয়া গুণী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপদেষ্টাসহ অতিথিরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এই আয়োজন চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বইমেলার এই ২৬ দিনের প্রতিটি আয়োজনে আমাদের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত গর্বের। বাইরের কোনো শিল্পী নয়, আমাদের সিটি করপোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে অংশ নিয়েছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। আমাদের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সমাজের নেতৃত্ব দেবে। এ ধরনের আয়োজন তাদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মেয়র ১৫০টিরও বেশি স্টল ও প্রকাশক-লেখকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা মেলায় অংশ নিয়ে এটি সফল করতে সহযোগিতা করেছেন।
প্রসঙ্গত: এই একুশে পদকপ্রাপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচির নির্ভীক কলমের লড়াই ও মুক্তচিন্তার পক্ষে তার অবদান নতুন মাত্রা পেল। চট্টগ্রামের মাটিতে তার কর্মযজ্ঞ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একুশে স্মারক সম্মাননা পদকপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে এক গৌরবময় অধ্যায়। বৈষম্যবিরোধী সাংবাদিকতার নির্ভীক কণ্ঠস্বর, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল কলমযোদ্ধা জাহেদুল করিম কচি—যিনি পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার দীপ্ত আলো ছড়িয়ে চলেছেন।
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে লিখে গেছেন জাহিদুল করিম কচি, আপসহীন মনোবল আর সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত না হয়ে, সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দেশ ও জাতির পক্ষে কলম চালিয়ে গেছেন নিরলসভাবে। তার এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি মুক্তচিন্তা, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এবং নির্যাতিতের পক্ষে সোচ্চার থাকার এক অনন্য স্বীকৃতি বলে জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের অমর একুশে বইমেলার পর্দা বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নামলেও অমর একুশে বইমেলার পাঠকরা বই কিনতে পারবেন আরও দুদিন শুক্রবার পর্যন্ত।
খখ/মো মি


