আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: সংসদে পাস হলো নতুন আইন

Oplus_131072
thai foods

খাসখবর রাজনীতি ডেস্ক: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল (সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে। 

thai foods

আওয়ামী লীগের মিছিল, মিটিং, সমাবেশ ও প্রচারণাসহ যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী রূপ নিলো।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ-সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম চালালে শাস্তির বিধান যুক্ত করার বিষয়টি শোনা গেলেও সংসদে পাস হওয়া সংশোধনী বিলে তা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারি করা অধ্যাদেশ হুবহু সংসদে পাস হয়েছে।

আজ বুধবার সকালের অধিবেশনে দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বিলটি তোলার পর স্পিকারের আহ্বানে আবার বিবেচনার জন্য তোলেন। দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী না থাকায় এই বিষয়ের ওপর কোনো আলোচনা হয়নি।

তবে শেষ পর্যায়ে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করার সময় ফ্লোর চান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফ্লোর পেয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এ-সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট আমরা ৩-৪ মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এটা পুরো পড়তে পারিনি। আইনটি অবশ্যই একটি স্পর্শকাতর আইন। আমরা কি আইনটি পাসের জন্য একটু সময় চাইতে পারি?’

জবাবে স্পিকার বলেন, ‘আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে আমরা গ্রাহ্য করতে পারতাম। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই।’

জবাবে বিরোধী দলের নেতা বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে শিটটা তো পেয়েছি এইমাত্র।’

জবাবে স্পিকার বলেন, ‘যা হোক, এ বিষয়টি হয়তো পরে আমরা দেখব, বিলের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই।’ এরপর তিনি বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফ্লোর দেন।

ফ্লোর পেয়ে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ছিল, তা সংশোধনের জন্য।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা—উনারা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। একর্ডিংলি নির্বাচন কমিশনের তাদের নিবন্ধনটাও স্থগিত হয়ে আছে। এই আইনের অনুবলে পরবর্তীতে আইসিটি অ্যাক্টকেও পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করে সেই আইনটাও সংশোধন করা হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সংশোধনের সেকেন্ড রিডিং স্টেজে যদি আপনারা সংশোধনী দিতেন, ফাস্ট রিডিং উত্থাপনের পরে যদি আপনারা আপত্তি তুলতেন, তাহলে আলোচনার সুযোগ থাকত।’

এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি আমার রুলিং দিয়েছি। আপনি পাস করার প্রস্তাব করতে পারেন।’

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জাতিকে পরিষ্কার করার জন্য এই কথাগুলো বলেছি। জাতি পরিষ্কার আছে। আমরাই ময়লা করি। যাক মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা মেনে নিয়েছেন।’

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে সংসদে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

খখ/মো মি

আগেদায়িত্ব নেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ক্রিকেটারদের বড় সুখবর দিলেন তামিম ইকবাল
পরে“ইরানকে আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করতে দেওয়া হবে না”-ডোনাল্ড ট্রাম্প