খাসখবর জাতীয় ডেস্ক➤ চিত্রকর্মের স্বকীয়তায় যিনি ‘লাল মিয়া’ থেকে হয়ে ওঠেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, তিনি মাটি ও মানুষের শিল্পী এস এম সুলতান। আজ ১০ আগস্ট। বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী।
বাঙালি জাতিসত্তার গভীরতম অন্তর ভূমিতে সহস্র বছর ধরে যে অমিত শক্তি সুপ্ত ছিল তারই নান্দনিক শৈল্পিক প্রকাশের অন্যতম সূর্যসারথি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান। তার পুরো নাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান। তবে নড়াইলবাসীর কাছে ‘লাল মিয়া’ হিসেবে সমধিক পরিচিত তিনি।
১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা, পাখির কলকাকলীতে মুখরিত নিভৃতপল্লী মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই শিল্পী। তার বাবা মো. মেছের আলি ও মাতা মোছা. মাজু বিবি। চেহারার সঙ্গে মিলিয়ে পিতা-মাতা আদর করে নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া।
চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন “পাট কাটা”, “ধানকাটা”, “ ধান ঝাড়া”, “ধান ভানা”, “ জলকে চলা”, “ চর দখল”, “গ্রামের খাল”, “গ্রামের দুপুর”, “নদী পারা পার”, “ধান মাড়াই”, “জমি কর্ষনে যাত্রা”, “মাছ ধরা”, “নদীর ঘাটে”, “গুন টানা”, “ফসল কাটার ক্ষনে” , “শরতের গ্রামীন জীবন”, “শাপলা তোলা”র মত বিশ্ব বিখ্যাত সব ছবি।
১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পল ক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছিল। কালোত্তীর্ন এই শিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্সিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পদক পেয়েছিলেন।
বরেণ্য এ শিল্পী ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে নড়াইলের জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, কোরআন খানি, মিলাদ মাহফিল এবং সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে এসকল কর্মসূচি পালিত হবে।
খখ/মো মি


