দুর্গাপূজার আজ মহাসপ্তমী

দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে দুর্গতিনাশিনীর আগমন!
thai foods

খাসখবর ধর্ম ডেস্ক➤শারদীয় দুর্গাপূজার আজ মহাসপ্তমী। শারদীয় দুর্গোৎসবের গতকাল সোমবার (১১ অক্টোবর) ছিল মহাষষ্ঠী। দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে গতকাল শুরু হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসব।

thai foods

আজ থেকে সাড়ম্বরের মাত্রাটা বাড়বে। মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বোলে যেন ধ্বনিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের হূদয়তন্ত্রীতে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার। শোনা যাচ্ছে উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসা ও ঢাকের বাদ্য। দেশের হাজার হাজার পূজামণ্ডপ এখন উৎসবে মাতোয়ারা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দল বেঁধে পূজা দেখতে যাচ্ছে। বিকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।

আজ (১২ অক্টোবর) মহাসপ্তমী। আজ শুরু হচ্ছে দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান ও প্রসাদ গ্রহণ। মূলত দুর্গোৎসবের মূল পর্বও শুরু হচ্ছে আজ। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে অর্থাৎ ষোলটি উপাদানে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। সপ্তমী পূজা উপলক্ষ্যে সন্ধ্যায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, রামায়ণ পালা, আরতিসহ নানা অনুষ্ঠান হবে। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে সপ্তমীতে পূর্বাহ্ন ৯-৫৭ মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন ও সপ্তাদি কল্পারম্ভ এবং সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্ত।

এক সময় ঢাকার দুর্গাপূজা সীমাবদ্ধ ছিল পুরান ঢাকার কোতোয়ালি এলাকায়। বিগত কয়েক বছর ধরে পুরো ঢাকায় পূজা আয়োজন হচ্ছে মহাসমারোহে। শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ আশ্রম, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা কমিটি, গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন পরিষদ, বনানী পূজা উদ্যাপন পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ও ব্যক্তিগতভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশে। করোনার কারণে আলোকসজ্জা সীমিত করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকা, বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‍্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাদি পরিদর্শন করেন।

এদিকে, সম্প্রতি মহামারি করোনার প্রভাব কমে আসায় এবং পূজা উপলক্ষ্যে বেশ জমে উঠেছে শপিং মল, মার্কেট ও রাস্তার পাশের দোকানগুলো। ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন কাপড়, জুতা, প্রশাধন সামগ্রীসহ নানান জিনিস কিনতে।

চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীতে দুর্গাপূজার আয়োজন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রধান পূজামণ্ডপ জেএম সেন হল প্রাঙ্গণ সেজেছে নতুন সাজে। সুদৃশ্য তোরণ ও মণ্ডপে অধিষ্ঠিত হয়েছেন প্রতিমা।

দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে দুর্গতিনাশিনীর আগমনে সনাতনী সম্প্রদায় এখন আনন্দে মতোয়ারা।

নিপুণ শিল্পীর তুলির ছোঁয়ায় দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা মহাদেব, দেবী দুর্গা, শ্রীশ্রী লক্ষ্মী, শ্রীশ্রী সরস্বতী, শ্রীশ্রী গণেশ ও শ্রীশ্রী কার্ত্তিক সহ দেবীর পদতলে ধরাশায়ী অসুরের অধিষ্ঠান পূজা মণ্ডপগুলোতে। আয়োজকরা পূজার সব উপকরণ পূজাস্থলে আনতে ব্যস্ত। তবে অনেক মণ্ডপে দেখা গেছে, ঋষির দেওয়া প্রতিমা কাঠামো না মেনে মনগড়া আধুনিক ভঙ্গি ও পোশাকে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা।

জানা গেছে, প্রতিমা পূজার জন্য প্রয়োজন নিখুঁত গঠনশৈলি। বরাহপুরাণে বিষ্ণুরূপী অবতার বরাহ বসুমতীকে বলেছেন, “প্রতিমা যশস্য কর্তব্যা তদানীয় বসুন্ধরে। প্রতিমাং কারয়েচ্চৈব লক্ষণোক্তাং বসুন্ধরে। ” অর্থাৎ, যে দ্রব্য দিয়ে প্রতিমা প্রস্তুত করতে হবে সে দ্রব্য এনে শাস্ত্রোক্ত বিধিমতে প্রতিমা নির্মাণ করবে। এতে বুঝা যায়, প্রতিমা হতে হবে শাস্ত্রোক্ত বিধিমতো অর্থাৎ ঋষিদের দেওয়া কাঠামো অনুযায়ী, নিজ মনের কল্পনা অনুযায়ী নয়।

এ বছর চট্টগ্রাম জেলার আওতাধীন ১৫ উপজেলায় সর্বজনীন ১ হাজার ৫৫৩টি এবং পারিবারিক ৪১১টি মণ্ডপ সহ মোট ১ হাজার ৯৬৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেবীর বোধনের মাধ্যমে শুরু হওয়া পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে।

রোববার (১০ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা ও উৎসবাদি আয়োজনের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে গঠিত হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ গঠিত হওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ সংগঠন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা শাখায় রূপান্তরিত হয়।

তিনি বলেন, গত ৬ অক্টোবর বোয়ালখালীর মেধস আশ্রমে মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে জেলাব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম নগরীতে ১৬টি থানায় ব্যক্তিগত, ঘটপূজাসহ ২৭৬টি পূজামণ্ডপে এবং চট্টগ্রাম জেলার আওতাধীন ১৫ উপজেলায় সর্বজনীন ১ হাজার ৫৫৩টি ও পারিবারিক ৪১১টি মণ্ডপসহ মোট ১ হাজার ৯৬৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  দুর্গা এবার আসছেন ঘোড়ায় চড়ে। কৈলাসে ফিরবেন দোলায় চেপে।

খখ/মো মি

আগে‘একজন সাংবাদিক অকুতোভয়ে বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে কাজ করলে দেশ, সমাজ ও রাষ্ট্র উপকৃত হয়’-তথ্যমন্ত্রী
পরেনাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক আর নেই