কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন

thai foods

খাসখবর প্রতিবেদক, কুমিল্লা➤ কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন (৩৫)। কুমিল্লার সুজানগর এলাকায় নূর আহমেদ আলমের ছেলে সে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ ঘটনার ৮ দিন পর ইকবাল হোসেনকে শনাক্ত করেছে।

thai foods

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ এ ঘটনায় একজনকে চিহ্নিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ইকবাল হোসেনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

আজ(২০ অক্টোবর) বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের একাধিক সংস্থার তদন্তে এই নাটকীয় অগ্রগতি হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার আগের দিন রাত ২টা ১০ মিনিটে কুমিল্লার দারোগাবাড়ির মসজিদ থেকে কিছু একটা হাতে নিয়ে বের হন এক যুবক। এর ঘণ্টাখানেক পর নানুয়াদীঘি অস্থায়ী মণ্ডপের উত্তর-পূর্বদিকের রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় ওই একই ব্যক্তিকে। এ সময় তার কাঁধে ছিল হনুমানের হাতে থাকা গদা।

ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশ ও পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাত ২টার পর থেকে থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেন ওই ব্যক্তি।

শারদীয় দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন গত(১৩ অক্টোবর) বুধবার ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। এরপর কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হিন্দুদের ওপর হামলা করতে যাওয়া একদল ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সেখানে নিহত হন চারজন। পরদিন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হিন্দুদের মন্দির, মণ্ডপ ও দোকানপাটে হামলা–ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে হামলায় নিহত হন দুজন। এরপর রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা করে ভাঙচুর, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এরপর টানা ৫ দিন(১৩-১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের ১৫টির অধিক জেলার আরও অনেক এলাকায় হিন্দুদের অসংখ্য মন্দির, মণ্ডপসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে।

কুমিল্লা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবারের ওই ঘটনার পর গত এক সপ্তাহে ঢাকা ও কুমিল্লা পুলিশের কয়েকটি দল তদন্তে নামে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ইকবাল হোসেনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কোতয়ালি মডেল থানায় ৫টি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ২টি ও দাউদকান্দি মডেল থানায় একটিসহ মোট ৮টি মামলা হয়।

আগামীকাল এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

খখ/মো মি

আগে১৮ বছরের বেশি বয়সের সবাইকে দেওয়া হবে করোনা টিকা
পরে‘শেখ হাসিনার সরকারও চায় দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক’-ওবায়দুল কাদের