খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক➤চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিতেন কান্তি গুহকে হাত পিছমোড়া করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে হাইদগাঁও ইউনিয়নের ব্রাহ্মণঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানাগেছে, পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ইফতারের ব্যানারে নাম দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। একপর্যায়ে হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিতেন কান্তি গুহকে মারধর করে রাস্তায় পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, পরনে জামা নেই, রক্তাক্ত জিতেন গুহের এ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিলের ব্যানারে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও দল থেকে বহিষ্কৃত হাইদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জসিমের নাম না থাকাকে কেন্দ্র করে দুপুরে অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান গালিগালাজ করে ব্যানার টেনে ছিঁড়ে ফেলেন।
একপর্যায়ে চেয়ারম্যান বিএম জসিমের লোকজন জিতেন কান্তি গুহকে মারধর করে টেনে কমিউনিটি সেন্টারের বাইরে এনে মেরে রক্তাক্ত করে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইফতার মাহফিলের ব্যানারে হাইদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুউদ্দিন মোহাম্মদ জসীমের নাম না দেওয়ার তার লোকজন জিতেন গুহর ওপর হামলা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় স্থানীয় গাউছিয়া কমিউনিটি সেন্টারে। ইউপি চেয়ারম্যান বিএম জসিমকে ইফতারে মাহফিলে দাওয়াত না দেওয়া ও ব্যানারে তার নাম থাকায় ঝামেলার সৃষ্টি হয়। বিকেলের দিকে চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে থাকা বাকি লোকজন জিতেন গুহকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এ সময় আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতিকেও চেয়ারম্যানের সমর্থকরা গালাগাল করেন।
চট্টগ্রামের পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ইফতার মাহফিলের ব্যানারে বর্তমান চেয়ারম্যানের নাম না থাকায় জিতেন গুহের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছিল। পরে তারাই (হামলাকারীরা) আবার খুলে দিয়েছে। বর্তমানে জিতেন গুহকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলার বিষয়ে হাইদগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বদরুউদ্দিন মোহাম্মদ জসিম গণমাধ্যমকে বলেন, এগুলো হচ্ছে আওয়ামী লীগের বিষয়। যে মার খেয়েছে সে আওয়ামী লীগের, যারা মেরেছে তারাও আওয়ামী লীগের। তার ওপর মানুষের ক্ষোভ ছিল। সেজন্য তাকে মারধর করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যানারে আপনার (বদরউদ্দিন) নাম না থাকায় আপনার কর্মীরা এ হামলা করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, এগুলো মানুষের কথা। ব্যানারে নাম থাকলেই কী না থাকলেই কী। হামলায় কোনো রাজনৈতিক বিষয় নেই, এটা ব্যক্তিগত বিষয়ে হামলা হয়েছে। ব্যানারের বিষয়টি ১০টি ঘটনার মধ্যে একটি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জিতেন কান্তি গুহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
খখ/মো মি


