খাসখবর বিনোদন ডেস্কঃ প্রখ্যাত গীতিকার ও সাংবাদিক কে জি মুস্তাফা আর নেই। রবিবার (৮ মে) রাত ৮টার দিকে আজিমপুরে নিজ বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।
রোববার (০৮ মে) রাত ৮টার দিকে নিজ বাসায় অসুস্থবোধ করলে কে জি মোস্তফাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৯ মে) বাদ জোহর কে জি মোস্তফার লাশ জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেওয়া হবে। সেখানে তার জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হবে।
কে জি মোস্তফার জন্ম ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৮ সালে শিক্ষানবিশ হিসেবে তার হাতেখড়ি দৈনিক ইত্তেহাদে। এরপর বেশ কিছু সংবাদপত্রে কাজ করেছেন তিনি।
১৯৬০ সাল থেকে চলচ্চিত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনে তার লেখা প্রচুর গান প্রচারিত হয়। হাজার গানের গীতিকার কে জি মুস্তাফার সিনেমার গানগুলো জনপ্রিয়।
১৯৭৬ সালে তিনি বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত হন এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সহকারী সম্পাদক পদে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে সিনিয়র সম্পাদক (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদা) হিসেবে অবসর নেন।
বেশ কিছু সিনেমার সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। রয়েছে বেশকিছু কাব্যগ্রন্থ, ছড়ার বই, গানের বই, গদ্যগ্রন্থ, গানের সিডি, ক্যাসেটও। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গীত বিভাগ কৃর্তক পদক ‘দেশবরেণ্য গীতিকার’ পদকসহ আরো বহু পদকে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
কে জি মোস্তফার লেখালেখি শুরু ছাত্রজীবনেই। ওই সময় থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকীতে তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়ে আসছে। এক পর্যায়ে গান লিখতে শুরু করেন এবং তার লেখা বেশ কিছু গান অসামান্য জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬০ সাল থেকে চলচ্চিত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনে তার লেখা অনেক গান প্রচার হয়।
সিনেমার কালজয়ী এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় দুই গান ‘তোমারে লেগেছে এতো যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে’ এবং ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন’-এর গীতিকার তিনি। প্রথম গানটি এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ এবং দ্বিতীয় গানটি অশোক ঘোষ পরিচালিত ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় ব্যবহার করা হয়েছে। দু’টি গানের সুর করেছেন রবিন ঘোষ। প্রথম গানটি গেয়েছেন তালাত মাহমুদ। দ্বিতীয়টি গেয়েছেন মাহমুদুন্নবী।
এক সময় নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালনার দিকেও ঝুঁকেছিলেন হাজার গানের গীতিকার কে জি মোস্তফা। ‘মায়ার সংসার’, ‘অধিকার’ ও ‘গলি থেকে রাজপথ’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।
কে জি মোস্তফার লেখা কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— কাছে থাকো ছুঁয়ে থাকো, উড়ন্ত রুমাল, চক্ষুহীন প্রজাপতি, সাতনরী প্রাণ, এক মুঠো ভালোবাসা, প্রেম শোনে না মানা। তার লেকা গল্পের বই কোথায় চলেছি আমি (সরস আত্মকাহিনী)। এছাড়া শিশু তুমি যিশু, কন্যা তুমি অনন্যা, মজার ছড়া শিশুর পড়া নামে তার তিনটি ছড়ার বইও রয়েছে।
কে জি মোস্তফার মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক
প্রখ্যাত গীতিকার এবং বিসিএস তথ্য ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা কে জি মোস্তফার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
তার মৃত্যুসংবাদে শোকাহত মন্ত্রী প্রয়াত এই সৃষ্টিশীল কর্মপ্রতিভার আত্মার শান্তিকামনা করেন এবং তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান তার শোকবার্তায় বলেন, কে জি মোস্তফা একজন সুশীল সেবক ও সাংবাদিক হিসেবে এবং তার রচিত যে সব গান দশকের পর দশক মানুষের মনে জাগরূক হয়ে আছে, সেই জনপ্রিয় সব গানের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে থাকবেন।
খখ/মো মি


