খাসখবর বিভাগীয় ডেস্কঃ ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১২ আগস্ট) নিউ ইয়র্কে বক্তৃতা দেওয়ার মঞ্চে সালমান রুশদির ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
‘দি স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসটি লেখার কারণে বছরের পর বছর ধরে হত্যার হুমকি পেয়ে আসছেন এই লেখক। অনেক মুসলিম এই বইটিতে তাদের ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন।
বিবিসি বলেছে, চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন সাবেক বুকার পুরস্কার জয়ী এই লেখক। এই সময়ে তার ওপর হামলার ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা এক লোককে মঞ্চে দৌড়ে উঠতে যেতে দেখেছে। এরপর রুশদিকে হয় ঘুষি মেরেছে বা ছুরিকাঘাত করেছে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, রুশদির ওপর হামলা হলে উপস্থিত লোকেরা মঞ্চের দিকে ছুটে যায়।
‘দি স্যাটানিক ভার্সেস’ লেখার কারণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খোমেনি সেদিনই ফতোয়া জারি করেছিলেন সালমান রুশদীকে হত্যা করার জন্য ।
হামলার পরপরই তাকে সেখানে নেওয়া হয়। রিটা ল্যান্ডম্যান নামে এক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছেন তিনি। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, তার শরীরে তিনি কয়েকটি ছুরিকাঘাত দেখেছেন। এর মধ্যে
বলেছেন, মঞ্চে তার শরীরের নীচে অনেক রক্ত জমে ছিল।
রিটা ল্যান্ডম্যান নামের এই চিকিৎসক বলেন, ‘লোকজন চিৎকার করে বলছিল, এখনো তার পালস পাওয়া যাচ্ছে, পালস পাওয়া যাচ্ছে।’
হামলাকারী এখন পুলিশ হেফাজতে আছে। তবে তার পরিচয় এবং কী কারণে এই হামলা চালিয়েছেন সে সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।
সালমান রুশদী ১৯৮৮ সালে তার ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ বইটি প্রকাশের পর থেকে অব্যাহতভাবে মৃত্যু হুমকির মুখে আছেন। অনেক মুসলিম এই বইটিতে তাদের ধর্মের অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন।
‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রায় নয় বছর তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। এরপর বইটি অনেক দেশে নিষিদ্ধ করা হয়।
বইটি প্রকাশিত হওয়ার এক বছর পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি সালমান রুশদিকে হত্যার ডাক দেন এবং এজন্যে ৩০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন। এই বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভিন্ন দেশে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, তাতে ৫৯ জন মানুষ নিহত হয়।
সালমান রুশদী ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার একজন সরব প্রবক্তা।
খখ/মো মি


