খাসখবর জাতীয় ডেস্কঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার সব দলের অংশগ্রহণ চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী গত ৫-৮ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ভারত সফর করেন। এ সফর নিয়ে গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ থাকবে নাকি এককভাবে অংশগ্রহণ করবে- এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করুক, সেটাই আমরা চাই। যদি কেউ না করে, সেটা যার যার দলের সিদ্ধান্ত। সেজন্য আমাদের সংবিধান তো আমরা বন্ধ করে রাখতে পারি না। সংবিধানের ধারা অনুযায়ী, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধভাবে করবে না এককভাবে করবে, তা সময়ই বলে দেবে। আমরা ১৪ দল করে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করেছি। জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করেছে। তবে আমাদের সঙ্গে সমঝোতায় ছিল। কিন্তু ভবিষ্যত নির্বাচনে কে, কোথায় থাকবে তা তো সময়ই বলে দেবে। আর আওয়ামী লীগ উদারভাবে কাজ করে, সব দরজা খোলা রাখে।’
দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, এত কাজ করার পর জনগণ নিশ্চয়ই আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে, সেটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। যদি এ চলমান উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে চান, না চাইলে তো কিছু করার নেই। সেটা জনগণের ইচ্ছা। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে যারা সবসময় আমাদের সঙ্গে ছিল, তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে এতে কোনো আপত্তি নেই।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নে পরিবর্তনটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। ক্ষেত্রমতে আমরা যাচাই করে দেখবো কার জেতার সম্ভাবনা আছে, কার নেই। তাছাড়া এখনো নির্বাচনের এক বছরেরও বেশি সময় বাকি আছে। সময় যত যাবে ততই বিষয়টা পরিষ্কার হবে। আমাদের সঙ্গে কে থাকবে, কে থাকবে না বা নতুন জোট হবে কি না? নতুন জোট হলে হোক, অসুবিধা নাই তো।
‘টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় অনেকেই ভুলে গেছেন ১৯৭৫ সালের পর দেশে বারবার ক্যু হচ্ছিল। কে কখন কী হয়ে যায়, তার ঠিক ছিল না। এই ছিল বাংলাদেশের অবস্থা’ উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী ‘টকশো’ আয়োজকদের উদ্দেশে বলেন, আজকে আপনারা এত কথা বলেন, টকশো করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে কে এত কথা বলেছে, বলেন তো? কেউ সেই সুযোগও পাননি। কারণ কথা বলার কোনো অধিকার ছিল না। কোথায় টকশো আর কোথায় মিষ্টি কথা, সে তেঁতুলের টকই হোক আর রসগোল্লার স্বাদ। কোনটাই তো কেউ পায়নি। তবে এখন শুনি, সব কথা বলার পরেও বলে, কথা বলার কোনো অধিকার নেই।
বিএনপির আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, এখন রাস্তায় আন্দোলন কিন্তু জনগণ সাড়া না দিলে সেটা তো আর আমাদের দায়িত্ব না। কিন্তু আওয়ামী লীগ যে বিএনপির হাতে নির্যাতিত, সেই কথা ভুলে গেলে চলবে না। আওয়ামী লীগের ওপর সবাই তো চড়াও হয়েছে। সেই জিয়াউর রহমান শুরু করলো তারপর একের পর এক। লাশ টানতে টানতে আর আহতদের চিকিৎসা করাতে নাভিশ্বাস উঠেছিল আমাদের।
আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, আজকে কিন্তু সেই পরিবেশ নেই। এমনকি আমার পার্টির যদি কেউ অন্যায় করে, আমরা কিন্তু ছেড়ে দেই না যে আমার দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে, কিছু করবো না, তা নয়। যে অন্যায় করবে তার বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেবো এবং নিচ্ছি। আমি চাই, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকুক এবং দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আসুক।
শেখ হাসিনা বলেন, এখন যারা তত্ত্বাবধায়ক বা ইত্যাদি বলে চিৎকার করছেন, তারা ওয়ান-ইলেভেনের কথা ভুলে গেছেন? ২০০৭ সালের কথা ভুলে গেছেন, কী অবস্থাটা সৃষ্টি হয়েছিল? সেখান থেকে তো সবাই অন্তত মুক্তি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কথা বলার যে অধিকার, চলার অধিকার, সমালোচনার অধিকার, প্রশংসা করার অধিকার সবই তো পাচ্ছেন। কেউ তো কাউকে মুখ বন্ধ করে রাখছে না। কাউকে তো আমরা বাধা দিচ্ছি না। পূর্ণ স্বাধীনতা এটা তো আমি দিয়েছি, এটা তো স্বীকার করতে হবে।
ভারত সফর করে শূন্য হাতে ফেরেননি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সফরে বাংলাদেশ কী পেলো, এটা আপেক্ষিক প্রশ্ন। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সব বিষয়েই সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারত সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব দেখেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্র, যার সবদিকে ভারত। একপাশে ছোট্ট একটুখানি মিয়ানমার সীমান্ত। বাকি সীমান্তজুড়ে বঙ্গোপসাগর, এটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো- বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতের সব দল-মত এক থাকে।
বাংলাদেশের ইস্যুতে ভারত সবসময় আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের সব রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। পাশাপাশি ছিটমহল বিনিময়ের জন্য সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে স্থলসীমান্ত বিল পাস হয়েছিল। যখন দু’টি দেশ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হয়, তখন এটি বাস্তবসম্মত যে, অনেক ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। তবে সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। আমি সবসময় মনে করি, আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যা সমাধান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের সফরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি আছে। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর রেল ও সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। একে একে সেগুলো তো সব চালু হচ্ছে।
ভারত সফর নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ভারত এতকিছু করার পরও বিএনপি বলে বেড়াচ্ছে কিছুই হয়নি। এটা মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের বিষয়। বাংলাদেশ যাই করে ভারতের সঙ্গে সমান অধিকার ঠিক রেখেই করে।
খখ/মো মি


