বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

thai foods

খাসখবর শিক্ষা ডেস্কঃ ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল রবিবার (১ জানুয়ারি) সারাদেশে ‘জাতীয় পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ উদযাপিত হবে।

thai foods

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হল থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠ্যবই বিতরণের জন্য তিনি খুবই খুশি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জানান, সরকার ২০১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ শুরু করে এবং এ পর্যন্ত মোট ৪৩৪ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার ২১১টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করেছে।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আগামীকাল পয়লা জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় পাঠ্যবই উৎসব উদযাপন করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের বই উৎসব গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হবে। আর প্রাথমিক পর্যায়ের বইয়ের কেন্দ্রীয় উৎসব হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। অনুষ্ঠানে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি, কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৩৩ কোটি ৯১ লাখ ১২ হাজার ৩০০ পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী ও এসএসসি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথ মান বজায় রেখে এসব পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করেছে এবং নতুন বছরের প্রথম দিনে সব শিক্ষার্থী বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পাবে।

এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠ্যবই প্রায় ১০ কোটি। বাকি ২৫ কোটি মাধ্যমিক ও অন্যান্য বিষয়ের বই রয়েছে। বই উৎসবের আগে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৮০ শতাংশ বই জেলায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হলেও প্রাথমিকের বড় অংশের বই পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে। প্রাথমিকের বই দেরি করে ছাপা শুরু হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জানুয়ারির প্রথম দিনে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের মাধ্যমে বিশ্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে শিক্ষাবিদরা বলেন, এই উদ্যোগ স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার কমিয়েছে এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়েছে।

তারা বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের উদ্যোগকে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারণ এটি শিক্ষার্থীদের তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে।

২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই দেওয়া শুরু করে সরকার। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের উৎসব করে বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে।

খখ/মো মি

আগে“আমি আজ রাজকে আমার জীবন থেকে ছুটি দিয়ে দিলাম”-পরীমণি
পরে“শেখ হাসিনার সরকারকে হটাতে অতি ডান আর অতি বাম একজোট হয়েছে”-ওবায়দুল কাদের