খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক: চট্টগ্রামে গ্যাস বিপর্যয়ে চরম জনদুর্ভোগে পড়েছে নগরবাসী। ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি অঞ্চলে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখায় গতকাল শনিবার থেকে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী এলাকায় গ্যাস-সংকট বিরাজ করছে।
ঘূর্ণিঝড়ে মহেষখালীর ১টি ভাসমান
এলএনজি টার্মিনাল পাইপ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল গুলোর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখায় গ্যাস-সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট সমাধানে দু সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে এমনিতেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন কম। ফলে অন্য জায়গা থেকে চট্টগ্রামসহ সংকটপূর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে মহেষখালী ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দুটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই এলএনজি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে চট্টগ্রামে গতকাল সারা দিন গ্যাস পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্প কারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আবাসিক খাতে গ্যাস মিলছে না। গ্যাস নির্ভর সকল পর্যায়ে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। মহেষখালী থেকে দৈনিক ৬৫০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হত।
গতকাল চট্টগ্রামে সারা দিন গ্যাস-সংকটে শিল্পে উৎপাদন ও মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ে। রান্নার চুলা জ্বলছে না। গ্যাস নির্ভর শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস মিলছে না। গ্যাস চালিত যানবাহন অচল হয়ে পড়েছে। কাফকো সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
পেট্রোবাংলার মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, এলএনজি মজুত ও সরবরাহ মহেষখালী টার্মিনাল থেকে হয়ে থাকে। এখন এলএনজির নিরাপত্তার কারণে সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ছোট সমস্যা হলে সরবরাহ চালু রাখা যায়। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় মোখা বড় ধরনের দুর্যোগ হওয়ায় নিরাপত্তার কারণে আপাতত:এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যে কোনো সময় এলএনজি সরবরাহ চালু করা হবে।’
চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রেও উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাত ১১টা থেকে গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রাউজানে দুটি ইউনিটের মধ্যে গ্যাস-সংকটে একটি ইউনিট চালু ছিল। এখন গ্যাস না পাওয়ায় শুক্রবার রাত ১১টা থেকে চালু থাকা ইউনিটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামে ৬ লাখ ২ হাজার গ্যাস-সংযোগ রয়েছে। তার মধ্যে আবাসিক সংযোগ ৫ লাখ ৯৭ হাজার। এসব সংযোগের জন্য দৈনিক মাত্র ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, দেশে এলএনজি ছাড়াও দৈনিক ২২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হয়। তা থেকে চট্টগ্রামে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিলে কোনো সমস্যা হবে না। রাত ১২টার পর পাইপ লাইনে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ঢুকিয়ে দিলে তা দিয়ে সারা দিন আবাসিকের চাহিদা মেটানো যাবে। আবাসিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখলে মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (মেইন্টেনেন্স) মিজানুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শুক্রবার রাত ১১টা থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় নগরীতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। শুধু বাসাবাড়ি নয়, সিএনজি পাম্প ও শিল্প কারখানায়ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন হচ্ছে একই কারণে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই অবস্থা রোববার রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে, তবে আমরা চেষ্টা করছি বিকল্প উৎস থেকে কিছু গ্যাস সংগ্রহ করে অন্তত বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবারহ স্বাভাবিক রাখতে।’
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস ডিভিশন) রইস উদ্দিন আহমেদ জানান, ‘চট্টগ্রামে গ্যাসের মোট দৈনিক চাহিদা ৩০০ এমএমসিএফটি এবং এর পুরোটাই সরবরাহ করা হয় এলএনজি টার্মিনাল থেকে।
জাতীয় গ্রিড থেকে কোনো গ্যাস চট্টগ্রামে সরবারাহ করা হয় না, তিনি বলেন, ‘তবে এখন আমরা চেষ্টা করছি পেট্রোবাংলার সাথে কথা বলে জাতীয় গ্রিড থেকে কিছু গ্যাস নিতে, যাতে করে অন্তত ডমেস্টিক (বাসাবাড়ি) এর চাহিদা পূরণ করা যায়।’
এদিকে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো পাঁচ ছয় দিন সময় লাগতে পারে।
খখ/মো মি


