রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তৃতীয় মেয়াদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

thai foods

খাসখবর আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান তৃতীয় মেয়াদে ফের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। রোববার (২৮ মে) দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম ইতিহাসে রান-অফ ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারোগলুকে হারিয়ে তিনি জয়ী হন।

thai foods

রোববার (২৮ মে) অনুষ্ঠিত রান-অফ নির্বাচনে তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আনাদোলু ও বিরোধীদের সমর্থিত সংবাদ সংস্থা আনকার প্রকাশিত প্রাথমিক ফলে দেখা যায়, প্রায় ৯৩ শতাংশ ব্যালট বাক্স গণনায় এগিয়ে আছেন এরদোয়ান। বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১১টার দিকে তুরস্কের উচ্চ নির্বাচন বোর্ডের প্রধান আহমেদ ইয়ানার এক সম্মেলনে নির্বাচনের আংশিক ফল প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারোগলুর চেয়ে এগিয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। প্রাথমিকভাবে ৯৩ শতাংশ ব্যালট বাক্সের ভোট গণনায় এরদোয়ান ৫৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং কিলিচদারোগলু ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।’ প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৫ শতাংশের বেশি।

তুরস্কে স্মরণকালের ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। রেকর্ড মূল্যস্ফীতির মুখোমুখিও দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ভোটে এরদোয়ানের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল তিন মাস আগে দেশটিতে আঘাত হানা স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্প। ওই ভূমিকম্পে অর্ধলাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে দেশ ও বিদেশি তীব্র সমালোচনার শিকার হতে হয় এরদোয়ান সরকারকে।

চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যেগত ১৪ মে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে এরদোয়ানের সঙ্গে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কেমাল কিলিচদারোগলুর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। এতে এরদোয়ান পান ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট। কিলিকদারোগলু পান ৪৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ কোনো প্রার্থী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। দ্বিতীয় দফায় এরদোয়ানের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছিল। কারণ প্রথম দফায় ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা সিনান ওগান গত সপ্তাহে এরদোয়ানকে সমর্থন দেয়।

১৪ মে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি পার্লামেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। তখন এরদোয়ানের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একে পার্টি) ৬০০ আসনের মধ্যে ৩২৩ আসন পায়। এর অর্থ পার্লামেন্টে প্রথম দফায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে একে পার্টি। তাই দ্বিতীয় দফায় এমপি নির্বাচন না হয়ে শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০০৩ সালে সর্ব প্রথম তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এরদোয়ান। এবার নিয়ে তিন বার দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন তিনি।

বিশ্বনেতারাও এরদোয়ানকে শুভেচ্ছা জানানো শুরু করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও।

২০০৩ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী। এরপর দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালের ভোটেও তাঁর ওপরই আস্থা রাখেন তুরস্কের জনগণ। এবার টানা তৃতীয় মেয়াদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আগামী পাঁচ বছরও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়ে চলা দেশটির নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

১৪ মে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের আগে ধারণা করা হয়েছিল, এবারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছেন এরদোয়ান। ওই ভোটে বিজয়ী না হলেও ৬৯ বছর বয়সী এরদোয়ানই সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন—৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারওলু পেয়েছিলেন ৪৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট। কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় গড়ায় এই নির্বাচন। রোববার এই দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এরদোয়ান পেয়েছেন ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারওলু পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। এরদোয়ানকে নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

এরদোয়ানের উঠে আসা রক্ষণশীল রাজনৈতিক শিবির থেকে। গত শতকের বিশের দশকে মোস্তফা কামাল আতাতুর্কের হাত ধরে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে আধুনিক তুরস্কের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেই দেশে অনেকটা বিভাজন সৃষ্টিকারী নেতার ভাবমূর্তি নিয়ে এগোতে থাকেন এরদোয়ান।

খখ/মো মি

আগে“সিটি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায় বাহিনীকে নিতে হবে”-সিইসি
পরেপতেঙ্গায় ৮ জুয়াড়ি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার