পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে দিনভর সহিংসতা, নিহত ১৫, আহত ৩০০

thai foods

খাসখবর আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ৮ জুলাই (শনিবার) অনুষ্ঠিত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বেপরোয়া সহিংসতায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন জেলা জুড়ে আহত হয়েছেন ৩০০-র বেশি।

thai foods

এছাড়া নির্বিচারে ব্যালট বাক্স লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন, বিজেপির দুই, সিপিএমের দুই এবং কংগ্রেসের এক জন আছেন। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

এর আগে প্রাক-নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত হয়েছিল ১৭ জন। সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সহিংসতায় মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। এই সংখ্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। বিরোধীরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ এনেছে। পালটা তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে, শান্তিপূর্ণ ভোটে বাধা দিয়েছে বিরোধীরা।

ভোটের সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদ, মালদা, নদীয়া, উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার থেকে একের পর এক সহিংসতার খবর আসতে থাকে। সব থেকে বেশি সহিংসতার খবর আসতে থাকে মুর্শিদাবাদ থেকে। এখবর লেখা পর্যন্ত সেখানে পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কোচবিহারে তিন জনের মৃতু্যু হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে ফুল মালঞ্চ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১০৩ নম্বর বুথে তাদের কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমাবাজি করেছে সিপিএম। বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় আনিসুর অস্তাগারের। দক্ষিণ ২৪ পরগনারই কুলতলিতে ভোট দিতে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হন তিন এসইউসিআই সমর্থক। কোচবিহারের দিনহাটায় পেটে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে এক বিজেপি কর্মীর। কোচবিহারের ফলিমারিতে খুন হয়েছেন বিজেপির পোলিং এজেন্ট। উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর ২ (চাকুলিয়া) বিদ্যানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভেবরা ১০ নম্বর বুথে জাতীয় কংগ্রেস-তৃণমূল সমর্থকদের সংঘর্ষে খুন হয়েছেন তৃণমূল কর্মী। নিহতের নাম মোহম্মদ শাহেনশা। মুর্শিদাবাদের নওদায় খুন হয়েছেন কংগ্রেস কর্মী রমজান শেখ।

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদেরই লালগোলায় সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে এক সিপিএম কর্মীর। মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে আরেক তৃণমূল কর্মীকে কংগ্রেস কর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। রেজিনগরে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তৃণমূল কর্মী ইয়াসিন শেখ। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় তৃণমূল-কংগ্রেসের সংঘর্ষে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় খুন হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর বুথ এজেন্ট গৌতম রায়। নদিয়ার চাপড়ায় নিহত হয়েছেন তৃণমূল কর্মী হামজার আলি। মালদার মানিকচকে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। হুগলির আরামবাগের খানাকুলে ভোট দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিন ভোটার।

গতকাল শনিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বোমাবাজি, বন্দুক নিয়ে ব্যালট লুটের অভিযোগ আসতে থাকে। রক্তাক্ত হয়ে উঠতে থাকে একের পর অঞ্চল। অভিযোগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কথা থাকলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। কোথাও কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনী অনেক দেরিতে আসে।? ভোট লুট রুখতে কয়েকটি জায়গায় ভোটাররা ব্যালট বক্স পুকুরে ফেলে দেন।


সকাল থেকে বেজে চলেছে অভিযোগের ফোন, অফিস টাইমে দপ্তরে পৌঁছে সারা দিন নির্লিপ্তই রইলেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ। বেশি প্রশ্ন উঠল প্রথম তিন ঘণ্টা রাজ্য নির্বাচন কমিশন দপ্তরে তার অনুপস্থিতি নিয়ে। বিকালে নবান্নে সহকর্মীরা ঘরোয়া আলোচনায় তাকে বলেন, এর চেয়ে খারাপ সময় আর কারো জীবনে কী আসতে পারে? ‘নির্বিকার’ মুখেই তিনি বললেন, ‘কেউ গ্যারান্টি দিতে পারবে না, কে কাকে গুলি করে মেরে দেবে!’ সারা দিনে একটি বারের জন্যেও চেম্বার ছেড়ে বাইরে আসেননি রাজীব। সকাল ৭টায় ভোট শুরুর সময় কমিশনের দপ্তরে ছিলেন হাতেগোনা কয়েক জন কর্মী। উচ্চ পদস্থদের মধ্যে হাজির ছিলেন শুধু একজন সচিব। কন্ট্রোল রুমের ১২টি টেলিফোন একটানা বেজে চললেও ধরার জন্য পর্যাপ্ত কর্মী ছিল না। সকাল ৮টার মধ্যেই কমিশনে একের পর এক সংঘর্ষ, ব্যালট লুটপাট ও হতাহতের খবর আসতে থাকে। এদিকে, সহিংসতার ব্যাপারে কমিশনের কোনো ‘দায়’ নেই বলে দাবি করেন নির্বাচন কমিশনার রাজীব। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ ব্যবস্থাপনা। আমরা সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছি যাতে ভোটাররা ভোট দিতে পারেন।’

জানা গেছে, কংগ্রেস নির্বাচন বাতিলের দাবিতে আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির শরণাপন্ন হচ্ছে। একই দাবি তুলেছেন বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তৃণমূল কংগ্রেসও বিরোধীদের বিরুদ্ধে ভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে এলাকাভিত্তিক পুনর্নির্বাচনের দাবি তুলেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের ৩৪ শতাংশ আসন বিনা ভোটে জিতেছিলেন শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থীরা। বাকি ৬৬ শতাংশ আসনের সিংহভাগও দখল করেছিল শাসক দল। এবারও সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলেও বিরোধী বিজেপি, কংগ্রেস ও বাম দল প্রতিরোধ গড়ে তোলায় সেভাবে এগোতে পারেনি। তবে অন্তত ১২ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, এই নির্বাচনে গোটা রাজ্যে ভোট নেওয়া হবে মোট ৭৩ হাজার ৮৮৭ আসনে। এরমধ্যে রয়েছে ৩৩১৭ টি গ্রাম সভার ৬৩ হাজার ২২৯ আসন; ৩৪১ টি পঞ্চায়েত সমিতির ৯৭৩০ আসন; এবং ২২ জেলা পরিষদের ৯২৮ আসন।

প্রায় ২ লাখের বেশি প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য ভোট কেন্দ্র থাকছে ৬১ হাজার ৬৩৬ টি এবং মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৬৭ লাখ ২১ হাজার ২৩৪।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর গ্রামসভা নির্বাচনে এই প্রথম কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিজেপি ছাড়াও লড়তে হচ্ছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে।

খখ/মো মি

আগেচট্টগ্রামের চন্দনাইশে একনলা বন্দুকসহ তিন পাহাড়ি সন্ত্রাসী গ্রেফতার
পরে“বিএনপিকে মানুষ পোড়ানোর অপরাজনীতি করার সুযোগ আর দেবে না দেশের জনগণ”-ড. হাছান মাহমুদ