খাসখবর জাতীয় ডেস্ক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি জামায়াতে ইসলামীসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে জোট গঠন করে রাজনীতিতে পুনর্বাসন না করলে বাংলাদেশের জেনোসাইড অনেক আগেই স্বীকৃতি পেত।’
তিনি বলেন, ‘রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও আরও দেশগুলোর জেনোসাইড স্বীকৃতি পেয়েছে। সেসব দেশে আমাদের মতো ৩০ লাখ নয়, তিন থেকে চার লাখ মানুষ মারা গেছে। আমাদের এখানে জেনোসাইড স্বীকৃতি না পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, যারা মুক্তিযুদ্ধ চায়নি, সেই অপশক্তিকে নিয়ে রাজনীতি করার প্রবণতা। জামায়াতে ইসলামীসহ যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল তাদের নিয়ে জোট গঠন করে রাজনীতিতে তাদের পুনর্বাসন করা।’
রোববার (১০ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। ‘বাংলাদেশে জেনোসাইড: আন্তুর্জাতিক স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব)।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করার প্রবণতা, গণহত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাকে আড়াল করার প্রবণতা -এগুলো না থাকলে বাংলাদেশের জেনোসাইড অনেক আগেই স্বীকৃতি পেত।’
বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের জেনোসাইডের স্বীকৃতি নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও গবেষকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সমসাময়িক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর বিশ্বের প্রায় ৮০ দেশ ও ৩২ আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। আমি দেখলাম, এখন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন তাদের কৌশলে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে। আমরা সবসময় তাদের নির্বাচনে আসতে বলেছি, তারা নির্বাচন ভণ্ডুলের অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন তারা স্বীকার করছে নির্বাচনে অংশ না নেওয়াটা তাদের বিরাট ভুল ছিল।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিক্যাব সভাপতি নূরুল ইসলাম হাসিব। ডিক্যাব সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অপুর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন- জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
খখ/মো মি


