পাঁচলাইশ পাসপোর্ট অফিসে অভিযানঃ গ্রেফতার হলো ১১ দালাল, উদ্ধার ৫৫ হাজার টাকা

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্ক➤ দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করা যায় না, কিংবা অসম্ভব, এটা অনেকটা অলিখিত নিয়মে পরিনত। তাই কেউ নতুনভাবে পাসপোর্ট করতে গেলে প্রথমেই দালালের শরণাপন্ন হন। আর এ সুযোগটাই কাজে লাগায় দালাল চক্র। মোটা অংকের বিনিময়ে, তাদের নির্ধারিত ফিতে পাসপোর্ট কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। দ্রুত ও সহজে পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে তারা। এতো দিন এভাবেই চলছে তাদের কর্মকাণ্ড। আজ(৯ জুন) হঠাৎ বিধি হলো বাম! অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়লো ১১জন দালাল।

thai foods

নগরীর পাঁচলাইশ অফিসে পাসপোর্টের আবেদন করতে যাওয়া দুই ভাইকে জিম্মি করে এবং তাদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয় দালাল চক্র। এই অভিযোগে ১১ দালালকে গ্রেফতার করেছে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত ১১ জন দালাল দ্রুত ও সহজে পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে।

বুধবার (৯ ‍জুন) নগরীর পাঁচলাইশের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে থেকে গ্রেফতার হওয়া ১১ জন ব্যক্তি হলেন- সাইদুল হক (৪১), জাকির হোসেন রাজু (৫০), সাইফুল ইসলাম (৫৮), আমিনুল ইসলাম (৫৬), রফিক আহাম্মদ (৪৮), জহির উদ্দিন (৪৮), মোহাম্মদ মিয়া জুনায়েদ (৩৬), মজিবুল হক সোহেল (৪০), আহম্মদ হোসেন (৪৭), জামাল উদ্দিন (৪১) এবং হাজী মো. শফি (৭০)।

পুলিশ জানায়, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা থেকে সোহেল রানা নামে এক শিক্ষার্থী ও তার বড় ভাই আলী আকবর বুধবার(৯ জুন) সকালে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পাঁচলাইশের আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান। তারা গেটে পৌঁছার পর ২০ থেকে ২২ জন লোক এসে তাদের ঘিরে ধরে। সেখানে যাওয়ার কারণ জানতে চান। তখন সোহেল রানা জানান, তিনি প্রথমবার পাসপোর্ট করবেন এবং তার ভাইয়ের জন্য নতুন পাসপোর্ট বই ইস্যুর আবেদন করবেন। তখন ঘিরে ধরা লোকজন তাদের দ্রুত ও সহজে কাজ করে দেওয়ার কথা বলে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু, তারা সরকারি নিয়মে আবেদন করবেন জানালে ওই লোকজন মারমুখী হয়ে ওঠেন এবং তাদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করতে থাকেন। একপর্যায়ে আলী আকবরের পকেট থেকে ৫ হাজার টাকা কেড়ে নেন।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবীর বলেন, ‘সোহেল রানা জটলা থেকে কৌশলে সরে এসে আমাকে ফোন করেন। আমি দ্রুত টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১১ জনকে ধরে ফেলি। এসময় আরও কয়েকজন বিভিন্নভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের কয়েকজনকে তল্লাশি করে মোট ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করি। এর মধ্যে, আলী আকবরের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া ৫ হাজার টাকাও আছে।’

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার সাইদুল হকের কাছ থেকে আবেদনকারী আলী আকবরের আবেদনের কাগজপত্র ও পাঁচ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, জাকির হোসেনের কাছ থেকে ৯ হাজার ৭০০ টাকা, আমিনুল ইসলামের কাছ থেকে আট হাজার ৩০০ টাকা, জহির উদ্দিনের কাছ থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা, জুনায়েদের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা এবং জামালের কাছ থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি জাহিদুল কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পাঁচলাইশ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক ৩০/৪০ জন সক্রিয় দালালের নাম পেয়েছি আমরা। তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সাধারণ লোকজনকে পাসপোর্ট করতে বাধ্য করে। এমনকি আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তারা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে। আমরা সব দালালকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঁচলাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কবিরুল ইসলাম গণমাধ্যম কে জানান, পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ১১ দালালের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা করা হবে। পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খখ/মো মি

আগেআজ দৃষ্টিনন্দন ৫০ মডেল মসজিদের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী!
পরে‘ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখবে মডেল মসজিদ’-শেখ হাসিনা