খাসখবর মহামারী ডেস্ক➤ করোনায় মৃত্যু কমলেও শনাক্তের হার বেড়েছে। তবে দেশে করোনা পরিস্থিতির দিন দিন উন্নতি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৬ হাজার ৬২৮ জনে।
সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ৫৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২ হাজার ৭১০ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ১৭ হাজার ১৬৬ জনে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সিটিসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও বাড়িতে উপসর্গ বিহীন রোগীসহ গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন চার হাজার ১২৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৭ জন।
সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৯৭টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাব ১৩৯টি, জিন এক্সপার্ট ৫৪টি, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ৬০৪টি। এসব ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ২৭ হাজার ৮৪২টি। মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ হাজার ৫৯৫টি। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯০ লাখ ৯১ হাজার ৬১০টি।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার নয় দশমিক ৮২ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৬৯ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
এর আগে গতকাল রবিবার দেশে করোনায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং শনাক্তের হার ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সেই তুলনায় আজ করোনায় মৃত্যু কমলেও শনাক্তের হার বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ১২৪ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৮৭ জন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ৬৫ জনের মধ্যে ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ৫ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ১০ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে তিনজন ও ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১ জন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৩২ জন ও মহিলা ৩৩ জন। যাদের মধ্যে সবাই হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৬ জন, খুলনা বিভাগে ১০ জন, বরিশাল বিভাগে তিনজন, সিলেট বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে চারজন ও ময়মনসিংহে দুইজন মারা গেছেন।
এতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৯৬৩ জন ও আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন এক হাজার ৮৩৮ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে এসেছেন তিন লাখ ৭০ হাজার ১১১ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন তিন লাখ ১৬ হাজার ৬৯২ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ৫৩ হাজার ৪১৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে।
খখ/মো মি


