ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারনের আদালতে আত্মসমর্পণ

thai foods

খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্কঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশের স্ত্রী চুমকি কারন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

thai foods

সোমবার (২৩ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন চুমকি। এরপর জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, প্রদীপ ও চুমকি করনের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিন আজ। সকালে চুমকি করন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তিনি আরো বলেন, শুরু থেকে পলাতক ছিলেন প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। পরে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন চুমকি। একই সঙ্গে জামিনের আবেদন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রী চুমকি কারনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

গত বছরের ২৬ জুলাই দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা দুদক চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন প্রদীপ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে দুদক অভিযোগপত্র দেয়। প্রদীপ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকলেও এত দিন পলাতক ছিলেন তার স্ত্রী চুমকি। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বর্তমানে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

জানা গেছে, চুমকির ৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৩৪ টাকা। বাকি সম্পদ অর্থাৎ ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে বাড়ি, ৪৫ ভরি স্বর্ণ, একটি কার ও মাইক্রোবাস, কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবের মালিক প্রদীপের স্ত্রী চুমকি। প্রদীপের ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থে স্ত্রী চুমকি এসব সম্পদ অর্জন করেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া চুমকি নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার কোনো প্রমাণ পায়নি দুদক।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই টেকনাফের বাহারছড়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা। এ ঘটনায় একই বছরের ৬ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন প্রদীপ। সিনহা হত্যা মামলায় প্রদীপকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

খখ/মো মি

আগে“ডেল্টা প্ল্যানের মাধ্যমেই পরিবেশ রক্ষা করতে হবে”-প্রধানমন্ত্রী
পরেঅর্থ আত্মসাতের মামলায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ট্রাস্টি কারাগারে