খাসখবর চট্টগ্রাম ডেস্কঃ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, যতদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আছেন, ততদিন বাংলাদেশের তালেবান রাষ্ট্র বা শ্রীলঙ্কা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, দেশে দুটি পক্ষ রয়েছে; একটি দেশকে
তালেবান রাষ্ট্র বানাতে চায়, অন্যটি চায় শ্রীলঙ্কা বানাতে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার যতদিন থাকবে, ততদিন তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। যুবলীগ যদি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের গল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যায়, তাহলে বিএনপি-জামায়াতের অস্তিত্ব থাকবে না।
শনিবার (২৮ মে) পটিয়ার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা ফিরিয়ে নিয়ে বলছেন, পদ্মা সেতু কারো একার নয়, জনগণের। দেশের উন্নয়ন হয়েছে, তারা স্বীকার করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের একটি উন্নয়নশীল দেশ উপহার দিয়েছেন। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের জন্য আগামীর দুটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে- আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত করা এবং মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আমাদের প্রতিষ্ঠিত করা। বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাদের একটি উন্নয়নশীল ও মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পরিচিত করেছেন। সেই মর্যাদা রক্ষার্থে ও উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখতে মেধাসম্পন্ন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল, যা যোগ্য নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছে। আর এ যোগ্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। আর এর জন্য আমাদের রাজপথে, মাঠে ময়দানে থাকতে হবে। জনগণের পাশে থাকার কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস।
উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন, কে আসবে আগামীর নেতৃত্বে। কিন্তু প্রশ্ন হওয়া উচিত কেমন হবে আগামীর নেতৃত্ব। কে হবে সেটা বড় কথা না, আসল কথা হচ্ছে কেমন হবে আগামীর নেতৃত্ব। আপনারা প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করুন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মাটি বিপ্লবী মাটি। আজকের সম্মেলন ঐতিহাসিক সম্মেলন। এ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন সূচনা তৈরি হবে। প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন এমন ব্যক্তিকে আপনারা নির্বাচন করুন। আমাদের লক্ষ্য এ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলাকে নৌকার ঘাঁটিতে রূপান্তর করা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো স্বাধীনতাবিরোধী চক্রকে ভয় পায় না। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দিনে যুবলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে আপনারা সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত করবেন।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, “একটা শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে পরশ-নিখিল যুবলীগের দায়িত্বে এসেছে। তাদের দিয়ে ক্যাসিনো ও কমিটি–বাণিজ্য হবে না। আমাদের হাত দিয়ে সন্ত্রাসী, মাদকসেবী ও চাঁদাবাজদের নাম কখনও আসবে না।“ দক্ষিণ জেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি ‘সৎ ও পরিচ্ছন্নদের’ কমিটিতে দেখতে চান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈম ও মো. বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ।
দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি আ স ম টিপু সুলতান চৌধুরী।
এরআগে পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও শান্তির প্রতীক পয়ারা উড়িয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।
শনিবার (২৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।
দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন শনিবার (২৮ মে) সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তা কিছুটা দেরিতে শুরু হয়।
তবে সকাল থেকেই সম্মেলনের স্থান পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে মিছিল নিয়ে আসেন লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী উপজেলার আওয়ামী যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।
সর্বশেষ ২০১০ সালে ২৩ জুলাই আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীকে সভাপতি ও অধ্যাপক পার্থ সারথীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।
এবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করার পর দক্ষিণ জেলায় সভাপতি পদে ১৩ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৯ জন জীবনবৃত্তান্ত কেন্দ্রে জমা দিয়েছেন।
এদিকে কমিটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন। কমিটির বিষয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল ওপর আস্থা রেখেছেন তাঁরা।
শনিবার (২৮ মে) বিকেলে পটিয়ার হল টুডে নামে একটি কনভেনশন সেন্টারে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। পরে শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে।
এর আগে সম্মেলনের প্রথম দিনের প্রথম অধিবেশন চলে বিকেলে ৪টা পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সম্মেলনের প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘোষণার পর।
দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয়। এতেও যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সভাপতিত্ব করেন। এতে সঞ্চালনা করেন ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সোহাগ।
সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, কাউন্সিলরা কমিটির বিষয়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল ওপর আস্থা রেখেছেন।
তিনি বলেন, সভাপতি পদের প্রার্থী থেকে দুইটি নাম প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন সভাপতি পদে ৮ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৭ জন প্রার্থী রয়েছে।
খখ/মো মি


